ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতে তখন আর বেশি দেরি নেই। আল নাসর ৪-০ গোলে পিছিয়ে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য রাতটা এমনিতেই হতাশার। এর মধ্যেই মাঠে ঘটান আরো এক বিতর্কিত ঘটনা। আল আইনের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার মাতিয়াস পালাসিওসের ওপর মেজাজ হারান রোনালদো।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের উদ্বোধনী ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল আইনের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আল নাসর। ২৫ মিনিটে হুসেইন রাহিমির গোলে এগিয়ে যায় আল আইন। দ্বিতীয়ার্ধে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন সেই ফরোয়ার্ড। এরপর সুফিয়ান রাহিমি করেন দলের তৃতীয় গোল। আর ৮৫ মিনিটে জিওর্গোস ইয়াকুমাকিস শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে আল নাসর।
পুরো ম্যাচে বলতে গেলে রোনালদোকেও বোতলবন্দী করে রেখেছিল আল আইনের রক্ষণ। কাঙ্ক্ষিত গোল তো দূরের কথা, খুব একটা স্বস্তিতেও ছিলেন না পর্তুগিজ তারকা। ম্যাচের শেষদিকে সেই জমে থাকা হতাশারই বিস্ফোরণ দেখা গেল পালাসিওসের সঙ্গে সংঘাতে।
ম্যাচের শেষদিকে পালাসিওসের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। রোনালদো পালাসিওসকে জড়িয়ে ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেন।
ঘটনার পর পালাসিওস দাবি করেন, কথা-কাটাকাটির সময় তিনি রোনালদোকে সরাসরি বলেছিলেন, ‘রোনালদো এখন বুড়ো হয়ে গেছেন।’ শুধু তা-ই নয়, বল দখলের দৌড়ে রোনালদোকে তিনি সহজেই হারিয়ে দিতে পারবেন বলেও নাকি মন্তব্য করেছিলেন। পালাসিওসের ভাষ্য অনুযায়ী, তার এমন মন্তব্যের পরই পরিস্থিতি হাতাহাতির দিকে গড়ায়।
রোনালদোর জন্য রাতটি ছিল হতাশায় ভরা। তবে ম্যাচ শেষে শিষ্যের পাশেই দাঁড়িয়েছেন আল নাসর কোচ অ্যাঞ্জে পোস্তেকোগলু। রোনালদোকে নিয়ে হওয়া সমালোচনাও উড়িয়ে দিয়েছেন পোস্তেকোগলু।
তিনি বলেন, ‘যে মানুষটি আজও সবার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করে যাচ্ছেন, তাকে নিয়ে অন্তত এমন কথা বলা মানায় না। নিজেদের ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে যারা সর্বস্ব ত্যাগ করে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন, তাদের নিয়ে কথা বলার সময় সবার আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া উচিত।’

