আইপিএলে নেই মুস্তাফিজ।গত মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে আইপিএলে খেলেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের বাঁ হাতি পেসারকে নতুন মৌসুমে ছেড়েই দিয়েছে মুম্বাই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
গত মৌসুমে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে খেলেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ থেকে প্রায় ২.২ কোটি রুপিতে বাংলাদেশের এই বাঁ হাতি পেসারকে নিয়েছিল মুম্বাইয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ৭ ম্যাচ খেলে ৭ উইকেট—পারফরম্যান্স ছিল গড়পড়তা। নতুন মৌসুমে মুম্বাই যে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিচ্ছে, এ খবর আগেই বেরিয়েছিল। বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে কাল। আগামী মাসে আইপিএলের নতুন নিলাম সামনে রেখে মুম্বাই ধরে রাখা খেলোয়াড়দের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে মোস্তাফিজের নাম নেই।
২০১৬ সালে আইপিএলে গিয়ে ঝড় তুলেছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। ১৭ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন আইপিএলের উদীয়মান তারকা। পরের মৌসুমে একেবারে ভালো করতে পারেননি। গত মৌসুমে মুম্বাইয়ের হয়ে প্রথম দিকে নিয়মিতই খেলেছিলেন। কিন্তু এরপর চলে যান ডাগ আউটে। তবে আইপিএল থেকে ফিরেছিলেন গোড়ালির চোট নিয়ে। সে কারণেই খেলতে পারেননি আফগানিস্তানের বিপক্ষে জুনের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
মুম্বাই মোস্তাফিজকে পারফরম্যান্সের কারণে ছেড়ে দিয়েছে কিনা, সেটি অবশ্য জানা যায়নি। তবে আগেই জানা গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কককে পেতেই নাকি মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে তারা। গত মৌসুমে ২.৮ কোটি রুপিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলেছিলেন ডি কক, ৮ ম্যাচে পারফরম্যান্স ছিল বেশ ভালো। ১২৪.০৭ স্ট্রাইকরেটে তিনি রান করেছিলেন ২০১। তাঁকে এ মৌসুমে একই দামে মুম্বাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিতে যাচ্ছে বেঙ্গালুরু। গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল, ডি ককের খরচ সামলাতেই নাকি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে গত মৌসুমে ২.২ কোটিতে নেওয়া মোস্তাফিজকে।
গত জুলাইয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বিদেশের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে মোস্তাফিজকে খেলতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন। মোস্তাফিজের বারবার চোটে পড়া নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘মোস্তাফিজ বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে গিয়ে চোটে পড়ছে। দেশকে সার্ভিস দিতে পারছে না। আমি মনে করি এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। সে আমাদের দেশে থাকবে। বোর্ডই তার দেখভাল করবে। আবার ওদের জন্য খেলতে গিয়ে চোটে পড়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলবে না, আবার তাকে আমরা ঠিক করব। এটা হতে পারে না। আমি তাকে বলে দিয়েছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে তার বাইরে যাওয়া চলবে না।’
মুম্বাই মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বিসিবি সভাপতির এই মন্তব্য আমলে নিলেও নিয়ে থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নারীদের সঙ্গে ব্যাট করলেন
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক, দম্পতি জুটি!
মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একসঙ্গে ব্যাট করতে দেখা গেল দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডেন ভ্যান নিয়েকার্ক ও মারিজানে কাপকে। তারা সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে সমকামী দম্পতি হিসেবে জীবনযাপন শুরু করেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথমবারের মতো ঘটল এক অভিনব ঘটনা। যা আগে কখনও দেখা যায়নি। নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একসঙ্গে ব্যাট হাতে ২২ গজে জুটি বেঁধেছেন এক দম্পতি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নামেন তারা। নিয়েকার্ক-মারিজানে মিলে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬৭ রান। মাত্র ৬ রানে মধ্যে দুই ওপেনার বিদায় নিলে দলের হাল ধরেন তারা। এই দম্পতি জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটে ম্যাচ জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
মারিজানে ৪৪ বলে ৪টি চার এবং একটি ছক্কায় করেন ৩৮ রান। আর নিয়েকার্ক ৪৫ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৩৩ রানে আপরাজিত থাকেন। শুধু ব্যাট হাতে নয়, এই দম্পতি উভয়েই বল হাতেও নিয়েছেন উইকেট।
২০০৯ বিশ্বকাপে এই দুই প্রোটিয়া তারকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। নিয়েকার্ক ৮ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামেন। আর তার ঠিক দুই দিন পর, অর্থাৎ ১০ মার্চ অস্টেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হয় মারিজানের।
নিয়েকার্ক চলতি বছরের জুলাই মাসে তার সতীর্থ মারাজানেকে বিয়ে করেন। এরপর ইনস্টাগ্রামে বিয়ের ঘোষণা করেছিলেন মারিজানে।
অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়েকার্ক-মারিজানেই একমাত্র দম্পতি নন। নিউজিল্যান্ডের দুই নারী ক্রিকেটার অ্যামি স্যাটারওয়েট ও লিয়া তাহুহুরও গত বছর বিয়ে করেছেন।
তবে আইসিসির কোন প্রতিযোগিতায় একসঙ্গে ব্যাট হাতে প্রথমবার দেখা গেল নিয়েকার্ক-মারিজানে দম্পতিকে। তারা এর আগে একসঙ্গে ৫০তম ম্যাচ খেলেছেন।
আর মারিজানে খেলেছেন ৯৬ ওয়ানডে ও ৬৭ টি-টোয়েন্টি। তার দুই ফরম্যাটে রান যথাক্রমে ১৬২৬ এবং ৭০০। আর উইকেটের সংখ্যা রয়েছে ওয়ানডেতে ১০৬ টি। টি-টোয়েন্টিতে ৫০টি।
অভিষেকের পর নিয়েকার্ক এখন পর্যন্ত ৯৮ ওয়ানডে ও ৭০ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। দুই ফরম্যাটে তার রান যথাক্রমে ১৯৪৬ রান ও ১৫৩৮ রান।




