এইচ এম আব্দুল্লাহ ওমর ফারুক: শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী ফাদার মারিনো রিগনকে বাংলাদেশে সমাহিত করা হচ্ছে। বাগেরহাটের মোংলায় তাকে আগামী অক্টোবর অথবা তার আগেই সমাহিত করা হবে।
মোংলার বাসিন্দা ও ফাদার রিগনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী এন্টনি ভাগ্য সরকার এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসে অথবা তার আগেই ফাদার মারিনো রিগনের দেহ মোংলায় এনে সমাহিত করা হবে।’
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সহযোগী, লেখক ও অনুবাদক ফাদার মারিনো রিগন ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ৯৩ বছর বয়সে জন্মস্থান ইতালির ভিল্লাভেরলা গ্রামে মারা যান। এরপর ২৪ অক্টোবর গ্রামেরই একটি ক্যাথলিক গির্জায় তার শেষকৃত্য হয়। এ সময় তার কফিন ঢেকে দেয়া হয়েছিল লাল-সবুজের পতাকায়।
এন্টনি ভাগ্য সরকার জানান, ‘শেষকৃত্যের পর রিগনের দেহ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী দীর্ঘদিন পর মোংলায় এনে সমাহিত করা হচ্ছে।’ ফাদার মারিনো রিগন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি-লেখকদের প্রায় ৭০টি বই ইতালির ভাষায় অনুবাদ করেছেন। লিখেছেন বেশক’টি মৌলিক বইও।
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য রিগনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা এবং নাগরিকত্ব দেয়া হয়। তিনি ইতালীয় পরিচয় রেখে বাংলাদেশি পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করতেন।
ফাদার মারিনো রিগন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের কাছে ভিল্লাভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশে বাংলাদেশে আসেন। দেশের নানা জায়গা ঘুরে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার হলদিবুনিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন বসবাস করেন ফাদার রিগন।
ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসাসেবা ও দুস্থ নারীদের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রিগন অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় এবং সেবা দেয়ার মধ্যদিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন। এ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।
২০০১ সালে ফাদার রিগন হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ইতালি নিয়ে যেতে চান। তখন তিনি স্বজনদের শর্ত দিয়েছিলেন, ইতালিতে যদি মৃত্যু হয়, তবুও মরদেহ যেন বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
স্বজনেরা সে শর্ত মেনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইতালি নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রোপচারের আগে স্বজনদের কাছে তার শেষ মিনতি ছিল, ‘আমার মৃত্যু হলে লাশটি বাংলাদেশে পাঠাবে।’
এন্টনি ভাগ্য সরকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরিবারের সদস্যরা মরদেহ সমাহিত নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ছিলেন। অবশেষে তারা রাজি হওয়ায় ফাদার রিগনকে বাংলাদেশে সমাহিত করা সম্ভব হচ্ছে।