পারিশ্রমিক বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। দাবি-দাওয়া না মানা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সোমবার বিকালে হোম অব ক্রিকেট মিরপুর স্টেডিয়ামে সবার পক্ষে এ ঘোষণা দেন সাকিব আল হাসান। এ সময় তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহসহ দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন।
বোর্ডের দায়িত্বশীল এক পরিচালক বোর্ড সভা ডাকার কথা নিশ্চিত করেছেন। ওই পরিচালক বলেছেন, ‘সামনে ভারত সিরিজ। তার আগে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। আমরা কোনোভাবেই ক্রিকেটারদের বিপক্ষে নই। এই কারণে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বোর্ড সভা ডাকতে হয়েছে।’
আরেক পরিচালক তানজিল আহমেদ এক ফেসবুক পোস্টে ক্রিকেটারদের সঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসও ক্রিকেটারদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ঘোষণায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকালই বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের বেক্সিমকোর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক সভা হয়। সেখানেই আজ দুপুর ১২টায় জরুরি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ে বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলতে এদিন দুপুরের আগেই বোর্ডে যাবেন বিসিবিপ্রধান পাপন।
বেক্সিমকো অফিসে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ক্রিকেটারদের এমন আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেন বোর্ডকর্তারা। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক। আমরা বিস্মিত, হতবাক। এটি ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, দাবি-দাওয়া নিয়ে বোর্ডের কাছে লিখিতভাবে কিছু জানায়নি ক্রিকেটাররা। কোনো দাবি আকারে পেশ করলেও তা নিয়ে কথা হতো। কিন্তু তা না করে সরাসরি আলটিমেটাম দিয়েছে তারা। আমরাও চাই বিষয়টির মীমাংসা হোক। মূলত এ জন্যই বোর্ডে বসব আমরা। সেখানেই বসে সবকিছু ঠিক হবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ১১ দফা উত্থাপন করার পাশাপাশি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। অথচ ভারত সফরকে সামনে রেখে ২৫ অক্টোবর জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সফর, তবু এই ধর্মঘটকে ‘সময়োপযোগী’ এবং ‘যৌক্তিক’ বলে মনে করছেন ক্রিকেটাররা।









