আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞার পর মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাকিব আল হাসান। মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটি নিশ্চিত করে আইসিসি। কাউন্সিলের দুর্নীতিবিরোধী আইনের তিনটি ধারা ভঙ্গ করায় বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে দেওয়া হয় এই সাজা। আগামী দুই বছর সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ সাকিব। দুই বছরের মধ্যে এক বছর সাজা স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আবারও অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে।
২০১৭ সালের অক্টোবরে এমসিসির ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির সঙ্গে যুক্ত হন সাকিব। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে এই কমিটির দুটি সভায় অংশ নেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ক্রিকেট সংস্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করতে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটি বছরে দুইবার সভা করে। ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করা এই সংস্থাটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। আগামী মার্চে শ্রীলঙ্কায় এর পরবর্তী সভা হওয়ার কথা।
এমসিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাইক গ্যাটিং সাকিবের পদত্যাগের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এই কমিটি থেকে সাকিবকে হারানো সত্যি দুঃখজনক। গেল কবছর ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটিতে সাকিবের অনন্য অবদান ছিল। আমরা তাঁর পদত্যাগকে সমর্থন করি। মনে করি, এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ চলাকালে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান সাকিব। পরবর্তীতে ওই বছরেরই আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ম্যাচের আগেও তাকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন জুয়াড়িরা। পরে ত্রিদেশীয় সিরিজ কিংবা আইপিএলে ম্যাচ গড়াপেটা করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে আইসিসি একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সেখানে সাকিবের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪.৪ ধারার অধীনে তিনটি অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে
২.৪.৪ ধারা: ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ২০১৮ সালে আইপিএলের সময় জুয়াড়িদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবের কথা আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (এসিইউ) কাছে জানাননি সাকিব।
২.৪.৪ ধারা: ২০১৮ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজেই তাঁর সঙ্গে জুয়াড়িরা দ্বিতীয়বার যোগাযোগ করলেও সেটি দ্বিতীয়বার এসিইউর কাছে বিস্তারিত জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব।
২.৪.৪ ধারা: ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের একটি ম্যাচের আগে সাকিবকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটিও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
সাকিব আল হাসান সব কটির দায় স্বীকার করে নিয়েছেন এবং আইসিসির দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে দেওয়া সব শাস্তি মেনে নিয়েছেন। যদি নিষেধাজ্ঞার সময় শাস্তির সব বিধিবিধান মেনে চলেন, তবে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন।








