বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।
তিনি বলেন, বুয়েটে আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আমরা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অভিযোগপত্র দেয়ার কথা বলেছিলাম। আমরা এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের তদন্ত কাজ প্রায় সম্পন্ন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোটিভ যাই থাকুক, কাউকে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। আমরা এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি, শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদকে মারধর করা হয়েছিল।
জড়িতদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারবহির্ভূত গ্রেফতার ৫ জন। এই ২১ জনের মধ্যে ৭ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলত জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ছাড়া ইতোমধ্যে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডস্থল বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন-বয়, শিক্ষক, গার্ডসহ কয়েকজন ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বস্তুগত সাক্ষ্য ওবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার তদন্তে যে সমস্ত প্রক্রিয়া অবলম্বন করা দরকার, তা সম্পন্ন করা হয়েছে।
গ্রেফতার ২১ জনের বিরুদ্ধেই প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের নাম উল্লেখ করেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত করতে ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।








