এমন সুযোগ যুগে যুগে একবারই হয়তো আসবে। এমনিতেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খুব কমই পড়ে। তার উপর তাদের মাঠে গিয়ে ইতিহাস গড়া সত্যিই অকল্পনীয়। টি২০’র জন্মের পর থেকে অদ্যাবধি যে কাজটা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড কিংবা ইংল্যান্ডের মতো কেউ পারেনি। যদিও কিছু ভুল ছাড়া বাংলাদেশ লড়াইটা একেবারে খারাপ করেনি এটাও বলতে হয়। আর হারের কারণ খুঁজলে মোটা দাগে বের হবে চারটি দিক। এক. ক্যাচ মিস, দুই. টস ফ্যাক্ট ৩. ওয়ান ম্যান শো ৪.ছন্নছাড়া বোলিং।
নাগপুরে ভারতের দেওয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দলীয় ১২ রানে বাংলাদেশ জোড়া উইকেট হারায়। চাহালের পরপর দুই বলে সাজঘরে ফেরেন লিটন, সৌম্য। এরপর ১১০ রানে মিথুন ও মুশফিক সাজঘরের পথ ধরেন। দুই বন্ধু নাঈম ও আফিফ ১২৬ রানে আউট হন দুবের বলে। ১৪৪ রানে মুস্তাফিজ ও আমিনুল ফেরেন সাজঘরে। তাদের আউট করেন দিপক চাহার। নিজের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে দুই উইকেট। আগের ওভারের শেষ বলে শফিউলের উইকেট। টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ চাহারের।
প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন ডানহাতি পেসার। শুধু তাই নয়, মাত্র ৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড নিজের করে নেন এ পেসার। দুর্দান্ত বোলিংয়ে চাহার ভারতকে জেতান ম্যাচ। নাগপুরের সব আলো নিজেদের করে নেন। অথচ এমনটা নাও হতে পারত!
বাংলাদেশ দলে এটা যেন এখন চর্চিত হয়ে গেছে। প্রথম টি২০’তে মুশফিকুর রহিম ভালো করেছিল। আর তাতেই ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি২০ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে কেউ তেমনিভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। আর বাংলাদেশও ব্যাটে-বলে ছিল বিবর্ণ। ম্যাচটায় একক আধিপত্য বিস্তার করে জিতে যায় ভারত। সর্বশেষ নাগপুরে সিরিজের তৃতীয় টি২০’তে কেবল নাঈম শেখ আলো ছড়িয়েছেন। সেজন্যই একটু আশা জাগে, স্বপ্ন দেখে বাংলার ক্রিকেটেপ্রেমীরা। যদি শেষ অবধি খেলতে পারতেন নাঈম, হয়তো ভিন্ন কিছু হলেও হতে পারতো।
বোলিংয়ে সবথেকে হতাশ করেন দলের স্ট্রাইক বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে সিরিজের শেষটা আরও বাজে করলেন মুস্তাফিজ। তবে শফিউল ও আল-আমিন আজও মান রেখেছেন। শফিউল ৩২ রানে ২টি এবং আল-আমিন ২২ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন। ইতিহাস গড়ার সূবর্ণ সুযোগের দিনে আরেকবার হতাশ করল মুশফিক, মাহমদুউল্লাহরা।
নিজেদের হতাশার দিনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি নাঈম শেখ। ২২ গজে তার আগ্রাসন, শট নির্বাচন, টেম্পারমেন্ট ও ইনিংস বড় করার গতি বলে দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট পেতে যাচ্ছে এক ব্যাটসম্যান।









