নারীর অগ্রগতি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের নারীরা অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে এগিয়ে চলেছে। লক্ষ লক্ষ নারী লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সংবিধানে নারীর অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বেগম রোকেয়া পদক ২০১৯ প্রদান এবং বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এবার বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন বেগম সেলিনা খালেক (নারী শিক্ষা, নারী অধিকার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণে অবদান), নারী শিক্ষায় অধ্যক্ষ শামসুননাহার, ড. নুরুননাহার ফয়জননেসা (মরণোত্তর), মিজ পাপড়ি বসু (নারীর অধিকার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান) এবং বেগম আখতার জাহান (নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান)।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মেয়ে যদি আয় করে, তাহলে পরিবারে তার সম্মান থাকে। নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে সমাজে তার গুরুত্ব বাড়ে ও সম্মান নিশ্চিত হয়। নারীমুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য নারী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বেগম রোকেয়া এজন্যই নারীদের শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে গেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বড় বড় পদে নারীরা যেতে পারত না, কিন্তু এখন সে বাধা দূর হয়েছে। আমি ক্ষমতায় আসার পর নারীদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ দিয়েছি, সচিব নিয়োগ দিয়েছি। এছাড়া ডিসি-এসপি, পাইলট, নৌবাহিনী-বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীতে প্রচুর নারী কাজ করছে দক্ষতার সঙ্গে। নারীদের যখন সচিব-ডিসি-এসপি নিয়োগ দেই তখন আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে; কিন্তু কোনো কথাই আমি শুনিনি। আমি যাকে এসপি নিয়োগ দিয়েছিলাম প্রথমে সে এক হাতে পিস্তল এবং অন্য হাতে ডাকাত ধরে সে প্রমাণ করেছে যে নারীরাও পারে।
তিনি আরও বলেন, মেয়েরা আজ সর্বক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমি ৬০ ভাগ নারী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলাম। যে কারণে লক্ষ লক্ষ নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া আজ প্রতিটি ট্রেডে নারীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। নারী যেন চাকরি ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্যে অগ্রসর হতে পারে এবং উদ্যোক্তা হতে পারে সে জন্য তাদের ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। অনেক নারী উদ্যোক্তা হয়ে আজ সফল হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী, সংসদ নেতা এবং বিরোধী দলের নেতা নারী হয়ে এখানেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে নারীরা।
এসময় নারীর উন্নয়নে নীতিমালা চালু, যৌতুক নিরোধ আইন, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন, নারীদের জন্য ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।









