প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করতে পারবে এবং এভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সক্ষম হবে।
রোববার চট্টগ্রামের নেভাল একাডেমিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান ২০১৭/এ ব্যাচ ও ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার (ডিইও) ২০১৯/ব্র্যাভো ব্যাচের কমিশন লাভ উপলক্ষে নৌবাহিনীর রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ ২০১৯ অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সকল বীর নৌসেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের প্রয়োজনে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তার আলোকে বর্তমান নৌবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজসমূহের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নৌবহরে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে চালু করা হয়েছে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্বলিত আন্তর্জাতিক মানের সুবিশাল বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স।
সরকার প্রধান বলেন, নবীন কর্মকর্তারা নেভাল একাডেমি থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে। তিনি পেশা হিসেবে দেশ সেবার এ পবিত্র দায়িত্বকে বেছে নেওয়ায় নবীন কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অটুট রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিন সকাল পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে পৌঁছান। এরপর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সেনা ও বিমানবাহিনীর আঞ্চলিক অধিনায়কসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, এমপি এম এ লতিফ, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, নৌ সদর দপ্তরের পিএসও, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নৌ কমান্ডোসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও শিক্ষা সমাপনী ব্যাচের কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।









