সাজেদা হক: গতানুগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অনেকেই কর্মক্ষেত্রে গিয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন বলে মনে করেন হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ. কে আজাদ। তিনি বলেন, কোনো উদ্যোগ সফল হওয়ার জন্য উদ্যোক্তার নেতৃত্ব ও আন্তরিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। উদ্যোগের জন্য পুঁজির চেয়ে বড় বিষয় হলো উদ্যোক্তার আগ্রহ। দক্ষতাও সফল উদ্যোগের পূর্বশর্ত।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করণের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে। তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই স্বপ্নের অনেকটাই পূর্ণ হয়েছে।
পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ পূর্ণতা পেতে চলেছে। তিনি বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর এই অঞ্চলের শিল্প কারখানা স্থাপিত হবে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন মান সম্মত শিক্ষা। এ জন্য অভিভাবকের পাশা পাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানে অধিক মনোযোগি হতে হবে।
এ. কে আজাদ আরো বলেন, শুধু কম্বল দিয়ে মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করা যাবেনা, সে জন্যে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি করতে হবে। তিনি বলেন, পদ্মাসেতু এই অঞ্চলের মানুষের জন্যে আশির্বাদ স্বরূপ, সেতু উদ্বোধনের আগেই ফরিদপুর অঞ্চলে কল কারখানা স্থাপন করে মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ী নেতা, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং ভাবমূর্তিকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান।
এ. কে. আজাদ বলেন, শুধু সততা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলেই সফল হওয়া যাবে তা নয়। এগুলোর পাশাপাশি যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা সম্পর্কে উদ্যোক্তার সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বাজার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তরিক হতে হবে। পণ্য ও সেবার সেরা মান নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকতে হবে। লেনদেনে স্বচ্ছ থাকতে হবে। এসব থাকলে পুঁজির অভাব কাউকে আটকাতে পারে না।
অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী জানতে চান, কেউ যদি শূন্য থেকে উদ্যোক্তা হতে চান তার জন্য তার পরামর্শ কী? জবাবে এ. কে. আজাদ বলেন, পুঁজির চেয়ে বড় বিষয় উদ্যোক্তার আগ্রহ। যদি কেউ উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে হবে। বাজার, চাহিদা, পণ্যের মান ইত্যাদি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এরপর উদ্যোক্তার পুঁজির সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তৈরি পোশাকের পরেই বাংলাদেশের কৃষির সম্ভাবনা ব্যাপক বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যের মাধ্যমে প্রচুর আয় করছে। বাংলাদেশেও কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাত খাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে তিনি হা-মীম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এর সভাপতি। বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল ২৪ এবং দৈনিক সমকালেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি।
১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া এ কে আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করার পর ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন। পাট, বস্ত্র, চা এবং তৈরি পোশাক শিল্প ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ জড়িত থেকে এ সকল খাতের উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে কর্মসংস্থানসহ জাতীয় অর্থনীতিতে এক অনন্য আবদান রেখে চলেছেন এ কে আজাদ। তিনি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের উদ্যোক্তা।

১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা হা-মীম গ্রুপ বর্তমানে বছরে ৫২ কোটি ডলার রফতানি আয় করছে। তৈরি পোশাক খাতের প্রায় সব ক্ষেত্রেই হা-মীম গ্রুপের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর পাশাপাশি গণমাধ্যম খাতেও বিনিয়োগ রয়েছে এ গ্রুপের। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায় হা-মীম গ্রুপ দেশের অন্যতম। কর্মীদের চিকিৎসা সুবিধা, কর্মীর সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে হা-মীম কর্তৃপক্ষ। এ. কে. আজাদ দেশের শীর্ষ করদাতাদের অন্যতম। হা-মীম গ্রুপ অর্জন করেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃতি। নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এ. কে. আজাদ বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে হা-মীম গ্রুপ এক বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় করবে।
হা-মীম গ্রুপ টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস সেক্টরে বৃহত্তম বাংলাদেশী গ্রুপ অব কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। এ গ্রুপের অধিনে ২৬ টি গার্মেন্টস কারখানা, সোয়েটার কারখানা, বহু ব্যাগ শিল্প, লেবেল কারখানা, পাটকল, রাসায়নিক প্রণয়ন উদ্ভিদ, চা বাগান, পরিবহন সংস্থা, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল২৪ এবং দৈনিক সমকাল।









