বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে জাপান ফুটবল এসোসিয়েশনের (জেএফএ) নামটি বেশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা বাংলাদেশের ফুটবলে অর্থায়ন করছে। জাপানের টাকায় আগে পুরুষদের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট হতো, আর এখন নারীদের প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
এশিয়ান গেমস কাভার করতে জাপানে আগমন এই প্রতিবেদকের। গেমসের শহর আইচি-নাগোয়ায় এখনও যাওয়া হয়নি। টোকিওতে থাকায় আজ (বুধবার) বিকেলে জাপান ফুটবল এসোসিয়েশনের কার্যালয় পরিদর্শনের উদ্দেশে যাত্রা। টোকিওর কোরাকুইন স্টেশন থেকে ১০ মিনিট হেঁটে গেলেই জাপান ফুটবল এসোসিয়েশন।
বিশ্বকাপ ফুটবলে নিয়মিত অংশগ্রহণ, এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি; অথচ সেই দেশের ফেডারেশনের প্রধান কার্যালয় সেভাবে চোখে পড়ে না। টয়োটার সুরম্য ভবনে জেএফএ কার্যালয়। ভবনের সামনে এক কোণায় জেএফএ’র লোগো। অভ্যর্থনায় টয়োটার পাশাপাশি একটি জাপান ফুটবলের ডেস্ক।
জাপান ফুটবলের আন্তর্জাতিক বিভাগের কর্মকর্তা এসে এই প্রতিবেদককে কার্যালয়ে নিয়ে যান। ওই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য– টয়োটার এই ভবনে তিনটি তলা জাপান ফুটবল এসোসিয়েশনের নিয়ন্ত্রিত। এর প্রায় পুরোটাই প্রশাসনিক এবং দাপ্তরিক। একটা সভা কক্ষ রয়েছে। বাংলাদেশের মতো সভাপতি-সেক্রেটারির আলাদা বড় কক্ষ আছে কি না সেটা দেখা যায়নি।
কার্যালয়ের সামনে রয়েছে ছোট একটা রিসিপশন। সেখানে ২০১১ সালে নারী বিশ্বকাপে জাপানের চ্যাম্পিয়ন দলের ছবি। জাপান ফুটবল এসোসিয়েশনের কাজের কিছু নিদর্শনও দেখা গেল। জাপান ৭০ বছর বয়স্ক মানুষদের জন্য ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। সেই প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একেবারে অল্প বয়সী বাচ্চাদের ইভেন্টের ছবিও রয়েছে।
ফিফা ফুটবল র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০–এরও পরে। অথচ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বড় আলাদা নিজস্ব ভবন রয়েছে। যার সামনে সুবিশাল সবুজ গালিচা। বাংলাদেশ যে জাপানের অর্থে ফুটবল পরিচালনা করে এবং উন্নত ক্যাম্প ও কোচিংয়ের জন্য নির্ভরশীল, সেই জাপান ফুটবল এসোসিয়েশনের কার্যালয় চোখে পড়ার মতো নয়।
জাপান ফুটবল এসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা কোরাকুইন স্টেশনের জেএফএ প্রদর্শনীতে যেতে পরামর্শ দিলেন। ফেরার পথে পড়ায় খানিকটা ঢুঁ দিলাম। ১৮৮৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জাপান ফুটবল ইতিহাসের বাঁকবদল ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এখানে লিপিবদ্ধ আছে। তবে সব কিছুই জাপানিজ ভাষায় হওয়ায় আর বোধগম্য হয়নি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে জাপানের ম্যাচের বলগুলো সংরক্ষিত আছে এখানে।
ফুটবলে কোচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে জাপান দলের কোচের ছবি এসোসিয়েশনের কার্যালয়, ব্লুইংয়ের প্রদর্শনীতেও বেশ কয়েকবার গুরত্বের সঙ্গে দেখানো হয়েছে। এদিকে, নারী দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও, এখন পর্যন্ত ছেলেদের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠতে পারেনি জাপান। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে তারা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।









