তৃতীয় টার্মিনালে ১৫ সংকটের মুখে কাস্টমস!

0
4

বাইরে থেকে দেখলে ঝকঝকে নতুন ভবন, আধুনিক প্রযুক্তি, যাত্রীসেবার বিশাল আয়োজন। যেন বদলে যাওয়া দেশের নতুন বিমানবন্দরের চিত্র। চকচকে এমন ভবনের আড়ালে লুকিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা।

তৃতীয় টার্মিনালে যেখানে কাস্টমসের হাতে থাকা উচিত যাত্রীদের লাগেজের আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থা, চোরাচালান ঠেকানো ও রাষ্ট্রের রাজস্ব সুরক্ষার সব লজিস্টিক সহায়তা, সেই কাস্টমসই ১৫ সংকটের মুখোমুখি।

স্ক্যানার বসানোর পর্যাপ্ত জায়গার সংকট, জব্দ পণ্য রাখার নিরাপদ গুদাম নেই, সন্দেহজনক লাগেজ সরানোর আলাদা পথ নেই, রপ্তানি পণ্যের ওজন মাপার স্কেলও নেই। এমনকি বড় আকারের আমদানি পণ্য পরীক্ষা ও সংরক্ষণের জায়গা নিয়েও রয়েছে সংকট।

প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বিশাল কর্মযজ্ঞের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর দ্বারপ্রান্তে এসে কাস্টমসের নিজেদের মূল্যায়নেই এমন চিত্র উঠে এসেছে। অন্তত ১৫টি ঘাটতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা সমাধানের তাগিদও দিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এসব সমস্যা সমাধান না করে টার্মিনাল চালু হলে কাস্টমস কার্যক্রমে বিঘ্ন হওয়ার পাশাপাশি চোরাচালান, রাজস্ব ফাঁকি, জব্দ পণ্যের নিরাপত্তা এবং যাত্রীসেবায় বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চলতি বছরের ১৬ মার্চ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) এমন ঘাটতির কথা জানিয়ে চিঠি দিলেও সমাধান মেলেনি। পাঁচ মাসের বেশি সময় পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আবারও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।

সম্প্রতি বেবিচক ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদন সূত্রে বিষয়টি আবারও উঠে এসেছে। ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনারের চিঠির সূত্রে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা অবগত করেছেন।

যদিও সংকট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুহাম্মদ রইচ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

তৃতীয় টার্মিনালের কাস্টমস হলের জায়গা তুলনামূলক সংকীর্ণ বলে অভিযোগ। ছাদও নিচু এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নেই। ফলে একসঙ্গে বেশি যাত্রী এলে জট ও সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, নতুন টার্মিনালে ঘণ্টায় প্রায় ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারে। বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও তাদের লাগেজ সামলানোর জন্য যে পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন, কাস্টমস হল তার তুলনায় তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। শুধু জায়গার ঘাটতিই নয়, হলটির ছাদ তুলনামূলক নিচু এবং বায়ু চলাচল বা ভেন্টিলেশন ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয় বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

পণ্য জব্দ করা। কিন্তু তৃতীয় টার্মিনালের ল্যান্ডসাইডে মূল্যবান জব্দ পণ্য সংরক্ষণের জন্য পৃথক গুদামই নেই। কাস্টমসের মূল্যায়নে ভ্যালুয়েবল গুডস রিকোয়ারিং অ্যাটেনশন (ভিজিআর) এবং ট্রানজিট গুডস রিকোয়ারিং অ্যাটেনশন (টিজিআর) রাখার জন্য নির্দিষ্ট ও নিরাপদ গুদামের ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা, মূল্যবান ইলেকট্রনিকস কিংবা অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্য জব্দ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এসব পণ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করা না গেলে নিরাপত্তা, হিসাবরক্ষণ ও জবাবদিহি—তিন ক্ষেত্রেই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

টার্মিনালের বিভিন্ন অংশে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত অফিস স্পেস না থাকাও বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ বরাদ্দ নেই। এমনকি সহকারী কমিশনার ও যুগ্ম কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অফিস স্পেসও নিশ্চিত করা হয়নি। অন্যদিকে প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইনকে অতিরিক্ত জায়গা দেওয়া হলেও কাস্টমসের প্রয়োজনীয় অফিস কক্ষের ঘাটতি রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় টার্মিনালে কোনো লাগেজ সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত হলে সেটিকে কীভাবে সাধারণ যাত্রীপ্রবাহ থেকে আলাদা করে পরীক্ষার এলাকায় নেওয়া হবে। কিন্তু সন্দেহজনক লাগেজ সরানোর জন্য সুসংগঠিত চলাচলপথ ও পর্যাপ্ত নজরদারি ব্যবস্থা নেই।

সন্দেহজনক কোনো লাগেজ সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের মধ্য দিয়ে সরাতে হলে প্রয়োজন নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা। দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে লাগেজ কোথা থেকে এসেছে, কখন পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কোথায় রাখা হয়েছে। এসবের ধারাবাহিক হিসাব রাখাও কঠিন হতে পারে। এ জন্য আলাদা পরিদর্শন এলাকা, স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণ এবং লাগেজ শনাক্তকরণ ও নজরদারিতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আধুনিক বিমানবন্দরে কাস্টমস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার স্ক্যানার। কিন্তু তৃতীয় টার্মিনালে স্ক্যানার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট জায়গার ঘাটতি রয়েছে। কাস্টমসের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, শুধু স্ক্যানার স্থাপন করলেই হবে না; এর অপারেটরদের বসার জায়গা, কাজের উপযোগী পরিবেশ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ লাগেজ শনাক্ত হওয়ার পর সেটিকে মূল লাগেজপ্রবাহ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয় ডাইভারশন বেল্টের ব্যবস্থাও নেই। অর্থাৎ যন্ত্র থাকলেও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরো অপারেশনাল ব্যবস্থা না থাকলে স্ক্যানিং প্রযুক্তির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

ঝুঁকিপূর্ণ বা সন্দেহজনক ব্যাগেজ মূল ব্যাগেজ প্রবাহ থেকে আলাদা করে পরীক্ষার জন্য নেওয়ার প্রয়োজনীয় ডাইভারশন বেল্ট নেই। ফলে সন্দেহজনক লাগেজ আলাদা করার প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পরীক্ষার জন্য আলাদা করা সন্দেহজনক ব্যাগেজ সাময়িকভাবে নিরাপদে রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এসব ব্যাগেজের সংরক্ষণ, হিসাব ও ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনার জন্যও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

আমদানি করা পণ্যের শারীরিক পরীক্ষা বা ফিজিক্যাল এক্সামিনেশনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ইয়ার্ড নেই। ফলে বড় বা বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মত কাস্টমস কর্তৃপক্ষের।

বড় আকারের পণ্য, প্যালেট বা ক্রেটজাত কার্গো স্ক্যান করার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিদ্যমান স্ক্যানিং কক্ষের দরজা ও অবকাঠামো বড় চালানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্বয়ংক্রিয় কার্গো ব্যবস্থাপনা ও স্টোরেজ ব্যবস্থা থাকলেও কাস্টমসের পরীক্ষণ ও জব্দ প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় নেই। কোনো চালানে অঘোষিত বা চোরাচালানের পণ্য পাওয়া গেলে সেটি জব্দ করে কাস্টমসের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় নেওয়া ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অঘোষিত বা জব্দ করা পণ্য এবং বড় আকারের আমদানি পণ্য রাখার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ গুদাম নেই। ফলে জব্দ পণ্যের সংরক্ষণ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনায় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তৃতীয় টার্মিনালের বড় আকারের বা ওভারসাইজড কার্গো সংরক্ষণের জন্য পৃথক গুদাম না থাকায় ভবিষ্যতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মতে, বিমানবন্দর গুদামে আমদানি পণ্য সংরক্ষণের নির্ধারিত সময় থাকায় বড় আকারের পণ্যের জন্য উপযুক্ত গুদাম না থাকলে দ্রুত পণ্য খালাস ব্যাহত হতে পারে।

টার্মিনালে অন্তত দুটি ব্যাগেজ স্ক্যানার ও একটি যানবাহন স্ক্যানার স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ঘাটতির কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। পাশাপাশি জব্দ পণ্য রাখার জন্য প্রায় ১ হাজার বর্গফুট জায়গার একটি গুদাম প্রয়োজন বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। আছে সাময়িক আমদানি-রপ্তানি, পুনঃরপ্তানি কিংবা পুনঃআমদানির পণ্য শারীরিক পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত শেডের ঘাটতিও।

এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল বা ইসিটিতে কাস্টমসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি হলো পণ্য ওজনের স্কেল না থাকা। রপ্তানি পণ্যের ঘোষিত ওজনের সঙ্গে প্রকৃত ওজন মিলিয়ে দেখা রাজস্ব ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘোষিত ওজনের সঙ্গে প্রকৃত ওজনের পার্থক্য থাকলে ভুল ঘোষণা, পণ্যের প্রকৃতি বা পরিমাণ গোপন এবং অন্যান্য অনিয়ম শনাক্তে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কাস্টমস তাই দ্রুত রপ্তানি কার্গো টার্মিনালে ওজন স্কেল স্থাপনের সুপারিশ করেছে।

বড় বা ওভারসাইজ রপ্তানি পণ্য সাময়িকভাবে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় গুদাম সুবিধা নেই। এতে পণ্য পরীক্ষা ও কাস্টমস নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অস্থায়ী আমদানি-রপ্তানি, পুনঃরপ্তানি বা পুনঃআমদানিসহ বিভিন্ন ধরনের রপ্তানি পণ্য শারীরিকভাবে পরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত শেড বা নির্দিষ্ট জায়গা নেই।

এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা (সদস্য) নাম না প্রকাশের শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরে যাত্রী ও পণ্য চলাচল বাড়বে। কাস্টমসের ওপরও বাড়বে রাজস্ব আদায়, চোরাচালান প্রতিরোধ, পণ্য পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের জন্য স্ক্যানার বসানোর জায়গা, সন্দেহজনক লাগেজ সরানোর পথ, জব্দ পণ্যের নিরাপদ গুদাম, শারীরিক পরীক্ষার ইয়ার্ড, বড় পণ্যের গুদাম কিংবা রপ্তানি পণ্যের ওজন যাচাইয়ের মতো মৌলিক সুবিধার ঘাটতি থাকলে আধুনিক টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে।

তিনি বলেন, কাস্টমসের চিহ্নিত যে ১৫টি সমস্যার কথা বলা হয়েছে, এটাকে শুধু অবকাঠামোগত ঘাটতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজস্ব সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, পণ্য নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীসেবার বিষয়ও। আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ভবন প্রস্তুত হলেও প্রয়োজনীয় কাস্টমস অবকাঠামো কতটুকু প্রস্তুত সেটা পুনরায় যাচাই করা উচিত। তাই টার্মিনাল পুরোমাত্রায় চালুর আগেই সব সমস্যা সমাধান করা দাবি জানাচ্ছি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামোর অন্যতম বড় প্রকল্প। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর।

জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের সমন্বয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। টার্মিনালের নকশা করেছেন সিঙ্গাপুরের স্থপতি রোহানি বাহারিন।

তিনতলা টার্মিনাল ভবনের মেঝে আয়তন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। পুরো প্রকল্প এলাকায় রয়েছে কার্গো ভবন, ভিভিআইপি কমপ্লেক্স, মাল্টিলেভেল কার পার্কিং, আধুনিক যাত্রী ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য অবকাঠামো। টার্মিনালে রয়েছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ও ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্কসহ আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে ৫ লাখ টন পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তৃতীয় টার্মিনালে প্রথম উদ্বোধন হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। তবে উদ্বোধনের পরও টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রীসেবায় যুক্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সমন্বয়, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং পরিচালন-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের কারণে এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার পিছিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এরপর ধাপেধাপে কার্যক্রম বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে।

বহু প্রতীক্ষিত এই টার্মিনাল চালুর সময় যত এগিয়ে আসছে, কাস্টমসের চিহ্নিত অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলোও তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here