ম্যানসিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়া হলে চ্যাম্পিয়ন ম্যানইউ?

0
11

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক নিয়ম লংঘন করায় ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগ এনেছিল প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১১৪টি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিটিজেনরা। বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে ওই সময়ে তাদের সব শিরোপা কেড়ে নেওয়ার মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে আভাস মিলছে।

ম্যানসিটির বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘোষণা আসেনি। তাই আপাতত তাদের সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে কানাঘুষা চলছে। ওই ৯ বছরে ম্যানসিটি তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল, যার প্রথমটি এসেছিল ২০১২ সালে।

ওই আসরে রানার্সআপ হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। স্বাভাবিকভাবে ম্যানসিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়া হলে চ্যাম্পিয়ন হবে তাদের নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এমন সম্ভাবনা দেখা দিতেই ম্যানইউর ওই মৌসুমে ক্লাবে থাকা রিও ফার্দিনান্দ ও ডেভিড ডি গিয়া জনসমক্ষে তাদের সংগ্রহের তালিকায় সেই ট্রফি ও পদকের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু তাদের সাবেক সতীর্থ ওয়েন রুনি ভিন্ন দলে।

রুনি জোর দিয়ে বলেছেন, ২০১১-১২ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার যোগ্য ছিল না ম্যানইউ। ম্যানসিটির কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়া হলে তিনি বিজয়ীর পদক গ্রহণ করবেন না। স্টিক টু ইউনাইটেড-কে তিনি বলেছেন, ‘আমি শুনেছি রিও আরেকটি প্রিমিয়ার লিগ পদক পাওয়ার ব্যাপারে মুখ খুলেছেন… সত্যি বলতে, আরেকটি প্রিমিয়ার লিগ পদক গ্রহণ করতে আমি খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না আমরা এটার যোগ্য। লিগ জেতার মতো যথেষ্ট কিছু আমরা ওই মৌসুমে করেছিলাম না। যতদূর মনে পড়ে চার বা পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখে আমরা ছয়-সাত পয়েন্ট এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু পরে সেই সুযোগ নষ্ট করেছি।’

ম্যানসিটির কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়া অন্যায় হবে মনে করেন রুনি, ‘গত কয়েকদিনে যা কিছু সামনে এসেছে, আমি তার সবকিছু দেখেছি এবং মানুষের কথা শুনেছি। আমি নিজেকে একজন ম্যানসিটি খেলোয়াড়ের জায়গায় রেখে ভাবছিলাম… ওরা খেলোয়াড়, প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতার জন্য ওরা নিজেদের সাধ্যমতো সবকিছু করছে এবং ওদের মনে হচ্ছে যে ওরা সেটা করে ফেলেছে। যদি ওই খেলোয়াড়দের কোনো ধারণাই না থাকে যে তাদের ওপরের মহলে কী ঘটছে, আর আমার সাথে যদি এমনটা হতো… আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যেতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা হতে পারে, হয়তো তারা তাদের কাছ থেকে (পদক) নিয়ে নেবে। কিন্তু আমি এটা (পদক) চাই না। কারণ আমার মনে হয় না দল হিসেবে ওই বছর আমরা এর যোগ্য ছিলাম। কারণ আমরা তো প্রথম স্থানে থেকে শেষ করতে পারিনি।’

ফার্দিনান্দের কথা টেনে তিনি বলেন, “তাই যখন আমি সতীর্থদের বলতে দেখি, ‘আমি পদক চাই’, আমি পাঁচটি জিতে খুশি। আমি এই একটা চাই না। মালিকদের কৃতকর্মের জন্য কি তাদের শিরোপা কেড়ে নেওয়া উচিত? হ্যাঁ, হয়তো বা। কিন্তু এটা গ্রহণ করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব না।’

ওই আসরের শেষ দিনে অপ্রত্যাশিত অঘটনের শিকার হয়েছিল ইউনাইটেড। রুনির গোলে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে তারা ভেবেছিল শিরোপা জিতে গেছে। স্টেডিয়াম অব লাইটে যখন শেষ বাঁশি বাজল, তখন সিটি ঘরের মাঠে কুইন্স পার্কের কাছে ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। চ্যাম্পিয়ন হতে তাদের জিততেই হতো। কিন্তু কয়েক মিনিট যেতেই এডিন জেকোর সমতাসূচক গোল, তারপর সার্জিও আগুয়েরোর সেই বিখ্যাত গোল ম্যানইউর হৃদয় ভেঙে দেয়।

এরপর ২০১৮ সালেও ম্যানসিটি রেকর্ড ১০০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেইবারও ম্যানইউ রানার্সআপ হয়। এই দুটি মেডেলের কথা উল্লেখ করে ফার্দিনান্দ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘কেবিনেটে আরেকটি প্রিমিয়ার লিগ পদক যুক্ত হতে যাচ্ছে।’ আর ডি গিয়া লিখেছেন, ‘তাহলে… কথা বলা যাক। আমি তাহলে কয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here