চীনে গেছেন মোদিসহ ২০ বিশ্বনেতা

0
39

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী তিয়ানজিনে পৌঁছেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন, যা বৈশ্বিক অঙ্গনে পশ্চিমা প্রভাবের পাল্টা ভারসাম্যের সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা করছে বেইজিং।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, রাশিয়ার প্রতিবেশী ও বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীনে পুতিনের চার দিনের এই বিরল সফরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, চীনের সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা তিয়ানজিনের বিমানবন্দরে পুতিনকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বলেছে, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে ‌‌‘ইতিহাসের সর্বোত্তম অবস্থানে’ আছে এবং তা এই সম্পর্ক ‘সবচেয়ে স্থিতিশীল, পরিণত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিয়ানজিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অন্তত ২০ বিশ্বনেতা পৌঁছেছেন। ২০০১ সালে ছয়টি ইউরেশীয় দেশকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) এই সম্মেলন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হতে যাচ্ছে।

গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক এই জোট ১০ স্থায়ী সদস্য ও ১৬টি সংলাপ ও পর্যবেক্ষক দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর কার্যপরিধি নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

শি জিনপিং এই সম্মেলনকে কাজে লাগিয়ে ‘আমেরিকান-নেতৃত্বহীন’ আন্তর্জাতিক বিশ্বের রূপরেখা তুলে ধরতে চান। একই সঙ্গে ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়াকে কূটনৈতিকভাবে বড় সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

সফরের একদিন আগে চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন মস্কোর ওপর আরোপিত পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে।

বাণিজ্যিক বিধি-নিষেধ ও যুদ্ধের ব্যয়ের চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে মন্দার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতারা এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। চীন এবারের এসসিও সম্মেলনকে ‘গ্লোবাল সাউথের’ উন্নয়নশীল ও নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর ঐক্যের শক্তিশালী প্রদর্শনী হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

সূত্র: রয়টার্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here