দ্য ইউনাইটেড স্ট্যান্ডকে দেওয়া বক্তব্যে রুনি বলেন, ‘রোনালদোকে নিয়ে আমার একটাই প্রশ্ন- কেন? একই দিনে (লিওনেল) মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছিলেন। আর রোনালদো এভাবে পর্তুগাল দল ছেড়ে চলে গেলেন,ডারেশনকে খাটো করা- সবকিছুই ভুল ছিল।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই অধিনায়কের মতে, বিষয়টি শুধু মাঠের ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন সতীর্থ কিংবা কোচের দৃষ্টিকোণ থেকেও রোনালদোর এমন আচরণ মেনে নেওয়া কঠিন। রুনি বলেন, ‘ফুটবলের দিক থেকে, একজন সতীর্থ ও একজন কোচের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখা মোটেও ভালো লাগেনি।’
রোনালদোর বয়স ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন রুনি। তার মতে, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেই এমন একটা সময় আসে, যখন জাতীয় দলের হয়ে খেলা শেষ করতে হয়। সেই বাস্তবতা মেনে নেওয়া রোনালদোর জন্য কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি।
রুনির ভাষায়, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জীবনেই এমন সময় আসে, যখন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, রোনালদো বিষয়টি ভালোভাবে সামলাতে পারছেন না। এটা দেখতে অস্বস্তিকর।’
রোনালদোর বিবৃতির একটি বিশেষ অংশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন রুনি। পর্তুগাল কোচ জেসুস সংবাদ সম্মেলনে কী বলবেন, সে বিষয়ে রোনালদো যেভাবে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন, সেটিকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন তিনি।
নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচে রোনালদোকে একাদশে রাখা হয়নি। পুরো ম্যাচে তাকে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়। এরপরই কোচের সঙ্গে তার বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর রোনালদোর বক্তব্যে কোচের কাছ থেকে কী ধরনের কথা প্রত্যাশা করেছিলেন, সেটিও উঠে আসে।
এ প্রসঙ্গে রুনি বলেন, ‘একজন কোচকে আপনি বলে দিতে পারেন না, তাকে কী বলতে হবে। আমি আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি।’
রুনি ও রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে একসঙ্গে খেলেছেন ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে ক্লাবটির সাফল্যের সময়ে দু’জন ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। একসঙ্গে জিতেছেন তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ।
রুনি বিদায় জানানোর আট বছর আগেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমান রোনালদো। পরবর্তী সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের হয়েও খেলেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তবে পুরোনো সতীর্থের সাম্প্রতিক আচরণে হতাশ রুনি। তার মতে, দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে অর্জিত সাফল্য ও মর্যাদার সঙ্গে এমন আচরণ মানানসই নয়।
কোচের সঙ্গে বিরোধ ও দল ছাড়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হলেও পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইচ্ছা থেকে সরে আসেননি রোনালদো। সুযোগ পেলে দেশের হয়ে খেলতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলার দরজা খোলা রেখেছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।









