প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে হাসপাতালে ফিরছে শৃংখলা

0
5

হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, কর্মস্থলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি আর রোগীদের ভোগান্তি—স্বাস্থ্য খাতের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করে অনিয়ম শনাক্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। তবে এসব পদক্ষেপ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি করে চিকিৎসকদের একটি অংশ।

কিন্তু শনিবার, ১৭ অক্টোবর, রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দেখতে পান অব্যবস্থাপনার চিত্র। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিজের কক্ষে ধূমপান করতে দেখা যায় সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে। কক্ষের অপরিচ্ছন্নতা দেখেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তাঁর নির্দেশে ওই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগের হাসপাতাল পরিদর্শন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থাগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এর আগে গত ৭ মার্চ নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে ২৬ জুলাই সাতক্ষীরার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। এসব ঘটনায় তাঁর অবস্থান ছিল—সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করলে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতায় সরকারের নীতিনির্ধারকদের হাসপাতালে প্রবেশ করা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।অন্যদিকে চিকিৎসকদের একটি অংশের সমালোচনাকে পুরো চিকিৎসক সমাজের অবস্থান হিসেবেও দেখার সুযোগ নেই বলে অনেকে মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তাৎপর্য এখানেই—সরকারি হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নটি শুধু একজন মন্ত্রীর উদ্যোগে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সরকারের জবাবদিহি ও জনস্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রশ্ন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগগুলো তাঁর নির্দেশে নেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের মধ্যে কোনো সংগঠিত সিন্ডিকেটের কারণে এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা দরকার।

সবশেষে প্রশ্ন একটাই—হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, ওষুধ সরবরাহ ঠিক রাখা এবং রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কতটা কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিতে পারে?

কারণ, হাসপাতাল পরিদর্শন কিংবা সাময়িক বরখাস্তই শেষ কথা নয়। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে—সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে কি না, তার ওপর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here