যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনা কমে আসায় নিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রচারে অর্থ ব্যয়, নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রার্থী বাছাই নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলছেন। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন। তবে যেসব ভোটার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী, তাদের সক্রিয় করতে সমর্থকদের বারবার বলছেন, তারা যেন এমনভাবে ভোটের বিষয়টি বিবেচনা করেন, যেন ব্যালটে ট্রাম্পের নামও রয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর তার নিজের কম জনপ্রিয়তার প্রভাব এবং নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণে তার ভূমিকা নিয়ে তিনি খুব একটা কথা বলছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনি কৌশল নিয়ে মতবিরোধের কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহযোগী জেমস ব্লেয়ার এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক সুপার প্যাক ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ পরিচালনা করেন ব্লেয়ার। নির্বাচনি প্রচারের তহবিল ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তদারকিতে ওয়াইলসের ভূমিকা নিয়েও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের অবস্থানের উন্নতি না হওয়ায় উপদেষ্টারাও পরস্পরকে দায়ী করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াইলস এ পরিস্থিতির জন্য ব্লেয়ারকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে, ব্লেয়ার হোয়াইট হাউসের আইনপ্রণয়নবিষয়ক দলকে দায়ী করছেন।
ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আসলে যা ঘটছে, তা হলো সবাই একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে।’ বিভিন্ন জনমত জরিপের ইঙ্গিত, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের শেষ দুই বছরে নিজের আইনগত ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা তাঁর প্রশাসনের কার্যক্রম তদন্তের জন্য কংগ্রেসের সমন জারির ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনি প্রচার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে।
তবে শুক্রবার সুসি ওয়াইলসের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি ওয়াইলসকে ‘বুদ্ধিমান’ ও ‘দৃঢ়’ বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, তিনি নিজের পদেই বহাল থাকবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘সুসি এখানে আছেন এবং দীর্ঘ সময় এখানেই থাকবেন।’
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এসব মন্তব্যকে ভিত্তিহীন জল্পনা বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, ‘কিছু লোক কোনো ভিত্তি ছাড়াই বিশেষজ্ঞ সেজে অনুমাননির্ভর কথা বলছেন।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও সুসি ওয়াইলস কোনো জবাব দেননি।
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরের এই মতবিরোধ দলটির নির্বাচনি কৌশল ও নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে।
সূত্র: রয়টার্স ।








