পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য তিন বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পরিকল্পনা সই করেছে। মঙ্গলবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে এ চুক্তি হয়। এর লক্ষ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা।
চুক্তির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা, নতুন প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রতিরোধ সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা করবে দুই দেশ। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেনাদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ বলেন, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মিচনিক নৌযান নির্মাণ কর্মসূচি, নারেভ ও পিলিকা প্রকল্পের আওতায় সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ১৫৫ মিলিমিটার গোলাবারুদ তৈরির জন্য নিজস্ব উৎপাদন লাইন স্থাপন।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, বর্তমান হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশের অভিন্ন মূল্যায়ন ও সংকল্পের প্রতিফলন এই চুক্তি। স্বাধীনতা ও স্বৈরশাসনের সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ড নিরপেক্ষ দর্শক হয়ে থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে ইউক্রেনকে সমর্থন ও পোল্যান্ডের ওপর রাশিয়ার কথিত হাইব্রিড হামলার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্ট্রিটিং এসব হামলাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বর্ণনা করেন। দুই দেশ ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের মন্ত্রীরা। তারা ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক জোটের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী আলোচনা নভেম্বরের মাঝামাঝি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। তবে ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান এখনো হয়নি।
সূত্র: ইউরোনিউজ; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ।









