ইঠা বাঈয়ের চরিত্রে ‘শ্রদ্ধা’

0
2

নাচের মঞ্চই ছিল তার জীবন। দর্শকদের হাততালি আর উচ্ছ্বাসের মধ্যে নিজের শিল্পীসত্তাকে খুঁজে পেতেন তিনি। কিন্তু মঞ্চের আলোয় ঘেরা জীবনের বাইরেও ছিল বিশ্বাসভঙ্গ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, নানা প্রতিকূলতা আর সংকট। এমনই এক শিল্পীর জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের নতুন সিনেমা ‘ইঠা’।

শুক্রবার প্রকাশ পেয়েছে লক্ষ্মণ উতেকার পরিচালিত এই সিনেমার ট্রেলার। এতে ভারতের মহারাষ্ট্রের কিংবদন্তি তামাশা ও লাবণী শিল্পী বিঠাবাই ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রদ্ধা।

ট্রেলারের শুরুতেই লাবণীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মঞ্চে দেখা যায় শ্রদ্ধাকে। সামনে দর্শকের বিশাল সমাগম, হাতে আলো নিয়ে শিল্পীর পরিবেশনা উপভোগ করছেন তারা। জমকালো মঞ্চসজ্জার সঙ্গে লোকসংগীতের তালে শ্রদ্ধার নাচে উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের লোকশিল্পের আবহ। তবে শুধু মঞ্চের সাফল্য নয়, শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছে ট্রেলার।

একটি দৃশ্যে শ্রদ্ধার মুখে শোনা যায়, ‘আমার বিশ্বাসই ছিল আমার অহংকার। সেই বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার পর সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে।’ সংলাপটি বিঠাবাইয়ের জীবনে বিশ্বাসভঙ্গের গভীর ক্ষতকে সামনে আনে। অন্যদিকে, মঞ্চের বাইরে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে তাকে উৎসাহিত করতে দেখা যায় একজনকে। সেখানে বিঠাবাইয়ের তামাশা শিল্পে অবদানের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও ‘নাচের লড়াইয়ে তোমার কাছে নিয়তিকেও হার মানতে হবে’ এমন সংলাপে নাচের প্রতি তার ভালোবাসা ফুটে ওঠে।

বিঠাবাইয়ের শিল্পীসত্তা যে তার জীবনের মধ্যে কতটা জুড়ে ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে; সিনেমাটিতে তার পারিবারিক জীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও কিছু ঝলক রয়েছে।

কে ছিলেন বিঠাবাই?
১৯৩৫ সালে মহারাষ্ট্রের পন্ধরপুরে জন্ম নেওয়া বিঠাবাই ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকর ছিলেন তামাশা ও লাবণী নৃত্যের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী। লোকশিল্পীর পরিবারে বেড়ে ওঠায় অল্প বয়সেই পরিবেশনা শুরু করেন তিনি। তার জীবনের একটি ঘটনা আজও আলোচিত। একবার তামাশার মঞ্চে পরিবেশনার সময়ই প্রসববেদনা ওঠে বিঠাবাইয়ের। মঞ্চের পেছনে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর আবার পরিবেশনায় ফেরার প্রস্তুতি নেন তিনি। কিন্তু দর্শকেরা বিষয়টি জানতে পেরে অনুষ্ঠান বন্ধ করে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার অনুরোধ জানান। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত সিনেমাটির টিজারেও এই ঘটনা তুলে ধরা হয়েছিল।

মঞ্চে সাফল্য পেলেও ব্যক্তিগত জীবন খুব একটা সুখের ছিল না বিঠাবাইয়ের। এক মঞ্চনাটকের সূত্র বিঠাবাইয়ের স্বামী মারুতি সাওয়ান্তের সঙ্গে তার কঠিন দাম্পত্য উঠে আসে। মারুতি বিঠাবাইয়ের উপার্জনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতেন এবং তার ওপর নির্যাতন চালাতেন।

জীবনের শেষদিকে আর্থিক সংকটেও পড়েছিলেন এই শিল্পী। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে তার মৃত্যু হয়। সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেও তার পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। তবে শিল্পী হিসেবে নিজের পরিচয়ের বাইরেও তামাশা শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করেছেন বিঠাবাই। তাদের পেনশনের ব্যবস্থা করতে মহারাষ্ট্র সরকারের কাছেও ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

দিনেশ ভিজান, লক্ষ্মণ উতেকার ও করিশ্মা শর্মার প্রযোজনায় ‘ইঠা’ নির্মিত হয়েছে ম্যাডক ফিল্মস ও কথপুতলি ক্রিয়েশনসের ব্যানারে। ‘লুকা ছুপি’, ‘মিমি’, ‘জারা হাটকে জারা বাঁচকে’ ও ‘ছাভা’র পর আবারও ম্যাডক ফিল্মসের সঙ্গে কাজ করছেন পরিচালক লক্ষ্মণ উতেকার। অন্যদিকে, ‘স্ত্রী’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পর এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আবারও জুটি বাঁধলেন শ্রদ্ধা। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন রণদীপ হুদা, মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব, নানা পাটেকর (সদ্য প্রয়াত), সিদ্ধার্থ যাদব, অনন্ত যোশী, অক্ষরা সিং ও উলকা গুপ্ত। সংগীত পরিচালনা করেছেন অজয়-অতুল। আগামী ৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘ইঠা’র।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here