আমার প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে : ডা. ফজলুল হক

0
44

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফেরত পেতে চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের আপিল নামঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, আমার প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাব।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্রের অজুহাতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অথচ একই অবস্থায় থাকা অন্য অনেক প্রার্থীকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আমি সময়মতো আবেদন করেছি। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সাক্ষাৎকারের (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) তারিখও দেওয়া হয়েছে। আর নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট পেতে সাধারণত দুই থেকে ছয় মাস সময় লাগে। এ কারণে মনোনয়ন দাখিলের সময় তার হাতে ‘সার্টিফিকেট অব লস অব ন্যাশনালিটি (সিএলএন)’ না থাকলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া চলমান ছিল এমন কাগজপত্র তিনি জমা দিয়েছেন।

ডা. ফজলুল হক বলেন, মনোনয়ন দাখিলের আগেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। মনোনয়ন দেওয়ার পরই নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যা আমি করেছি।

জামায়াত মনোনীত এই প্রার্থী দাবি করেন, শুধু আবেদন করেই বিএনপির একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন বৈধতা দেওয়া হয়েছে। একই মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। যদি নিয়ম সবার জন্য এক হতো এবং সবাইকে বাতিল করা হতো, তাহলে তার কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যের শামিল।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আপিল শুনানিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। আপিল গ্রহণ শুরু হয় ৫ জানুয়ারি এবং শেষ হয় ৯ জানুয়ারি।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়, যা চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তফসিল অনুযায়ী, শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি হয়। রোববার (১১ জানুয়ারি) ৭১ থেকে ১৪০, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১ থেকে ২১০ এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here