‘ইয়ামাল অন্য গ্যালাক্সির খেলোয়াড়’

0
23

লা লিগায় গতকাল (রোববার) দুই দলের লড়াইয়ে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালের চমৎকার গোলের পর রিয়াল ওভিয়েডোর কোচ গুইলারমো আলমাদা তাকে ‘অন্য গ্যালাক্সির’ খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল বক্সের ঠিক ভেতর থেকে একটি চোখ ধাঁধানো অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টায় ম্যাচের তৃতীয় গোলটি করেন। স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সা ৩-০ গোলে জয়ী হয়। দানি ওলমো ও রাফিনহা এর আগে কাতালান দলটিকে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই জয়ে তারা রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে টেবিলের শীর্ষে ফিরে এসেছে।

৭৩তম মিনিটে ইয়ামালের করা গোলটি মূল্যায়ন করতে বলা হলে আলমাদা বলেন, ‘আমরা অন্য একটি গ্যালাক্সির খেলোয়াড় সম্পর্কে কথা বলছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার অনেক গুণ রয়েছে এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সে ফলাফল এনে দেয়। তার বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও সে ইতোমধ্যেই এমন একজন তারকা হয়ে উঠেছে, যে ম্যাচ নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’

প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে শেষ হওয়া এই ম্যাচে মাঝেমধ্যে গতি হারিয়েছে, তারই মধ্যে ইয়ামালের এই মৌসুমের ১১তম গোলটি ছিল আকর্ষণীয়। তবে বার্সা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বলেছেন যে, প্রথম গোলের ক্ষেত্রে এই কিশোরের ভূমিকাই তার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। ইয়ামালের প্রেসিংয়ের কারণে বলটি আবার দখলে আসে এবং ওলমো গোল করার সুযোগ পান। কাঁধের চোট থেকে এই মাসে ফেরার পর ওলমোর এটি তৃতীয় গোল।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন, ‘লামিনে প্রথম গোলের জন্য যা করেছে, আমার কাছে তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে যেভাবে প্রেসিং করেছে এবং গোলটি হওয়ার আগে যেভাবে বলটি উদ্ধার করেছে, এটাই আমরা চাই। এই ম্যাচটি জেতা এবং তিন পয়েন্ট পাওয়ার জন্য এটাই ছিল চাবিকাঠি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার কাছে তৃতীয় গোলের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে অবশ্যই ফুটবলপ্রেমীরা সবাই তার করা এই গোলটি দেখতে পছন্দ করবেন এবং আমি খুশি যে সে এমন একটি গোল করেছে।’

গত সপ্তাহে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে বার্সার হারের পর শনিবার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে রিয়ালের জয় তাদের সাময়িকভাবে লা লিগার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল। ফ্লিক স্বীকার করেছেন যে, একটি কঠিন সূচির মধ্যে দলের পক্ষে সবসময় সেরা ফর্মে থাকা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, ‘ওভিয়েডোর হারানোর কিছু ছিল না। তারা সাহসী ছিল, হাই প্রেসিং করেছে এবং আমরা আমাদের সেরা স্তরে খেলিনি- অন্তত প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধ ভালো ছিল। আমাদের একের পর এক ম্যাচ খেলতে হচ্ছে, অনেক ভ্রমণ, রাতে দেরিতে ফেরা- সব মিলিয়ে এমনই চলছে। কোনো ছুটির দিন নেই বললে চলে। এটাও আপনাদের দেখতে হবে। হ্যাঁ, এটি পেশাদার ফুটবল, এটি স্বাভাবিক, এটি তাদের কাজ, তবে আমি দেখতে পাচ্ছি দল তাদের সেরাটা দিচ্ছে, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে।’

বার্সা এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বুধবার তারা ক্যাম্প ন্যুতে কোপেনহেগেনকে স্বাগত জানাবে। এই জয় তাদের সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার দারুণ সুযোগ দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here