পহেলা বৈশাখে শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ

0
7

দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন কৃষি সুবিধা পাবেন। আজ রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ তথ্য জানান। পহেলা বৈশাখে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন (৫ শতকের কম জমির মালিক) ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক (৫-৪৯ শতক) ৯ হাজার ৪৫৮ জন এবং ক্ষুদ্র কৃষক (৫০-২৪৯ শতক) ৮ হাজার ৯৬৭ জন রয়েছেন। এছাড়া মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ জন এবং বড় কৃষক ৯১ জন।

তিনি আরও জানান, মোট তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ২০ হাজার ৬৭১ জন, যা মোট কৃষকের প্রায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এদের মধ্যেই সীমিত থাকবে নগদ সহায়তা। কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে এই কৃষকদের বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কার্ড ব্যবহার করে তারা নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে সার, বীজ, কৃষিযন্ত্র, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাদ্যসহ বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন।

সরকার এই প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমে ব্যয় করছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ পর্যায়ের কাজ শেষ হলে ১৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে আগামী চার বছরে সারাদেশে কৃষক কার্ড বিতরণ ও একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই কার্ডের আওতায় দেশের সব কৃষককে আনা হবে, তবে নগদ সহায়তা সীমিত থাকবে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য। এই কৃষক কার্ড শতভাগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কর্মসূচি চালু করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার নির্বাচিত কৃষি ব্লকে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়, বগুড়া, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি, মৌলভীবাজার ও জামালপুর। উদ্বোধনের দিন কুমিল্লার একটি ব্লক ছাড়া বাকি নয়টি ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হবে। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লকে ১৭ এপ্রিল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকেরা নগদ সহায়তার পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here