‘এখনো মারা যায়নি, পেটাও’ বলে হামলাকারীদের তাণ্ডব

0
12

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে আব্দুর রহমান শামীম (৫২) নামের এক পীরকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে একদল দুর্বৃত্ত তার আস্তানায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আজ রোববার (সকাল ১১টা) এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দরবারের খাদেম জামিরন নেছা ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে বলেন, গতকাল শনিবার বেলা ১টার দিকে হঠাৎ করেই চারপাশ থেকে একদল মানুষ মিছিল নিয়ে দরবারের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। তাদের হাতে ছিল লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র। প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দরবারের ভেতর ঢুকে পড়ে তারা। তাকেসহ অন্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েন।

জামিরন নেছা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তারা পীর সাহেবকে ঘিরে ফেলে এবং লোহার রডসহ হাতে যা পেয়েছে, তা দিয়েই তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। প্রথম দফার মারধরে তিনি যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তখন মনে হয়েছিল তিনি হয়তো নিস্তেজ হয়ে গেছেন। কিন্তু তখনই হামলাকারীদের মধ্য থেকে কেউ একজন চিৎকার করে বলে ওঠে- এখনো মারা যায়নি, পেটাও!। এই নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা উন্মত্তের মতো আবার তার ওপর চড়াও হয়, এবং পৈশাচিক কায়দায় আঘাত করতে থাকে। এ সময় পীর সাহেব কথা বলেননি, শুধু মুর্শিদের নাম নিয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীদের অধিকাংশই ছিল তরুণ বয়সী। যদিও কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা যায়নি, তবে তাদের কথা বলার ধরন ও চলাফেরা দেখে মনে হয়েছে আশেপাশের গ্রাম থেকেই এসেছিল।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার রাত থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দরবার ও এর আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নিহত আব্দুর রহমান শামীম দীর্ঘ ১২ বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাধনা শেষে ২০২০ সালের দিকে ফিলিপনগর গ্রামে এসে নিজস্ব দরবার শরিফ গড়ে তোলেন। তিনি জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরীর ভক্ত ছিলেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। পরিদর্শনকালে এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়েই আমি ঢাকা থেকে সরাসরি ছুটে এসেছি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ধর্ম অবমাননার মতো কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশের খুলনা রেলের অতিরিক্ত ডিআইজি জয়েন উদ্দিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইন আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here