টি২০ তে নতুন অধ্যায় শুরু

0
3

লিটন কুমার দাস সেদিন হোটেল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন পরাজিত সেনাপতির মতো মাথা নত করে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে একটি বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আক্ষেপে পোড়া সেই লিটনরাই আজ আবার টি২০মুখী। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি মাঠে গড়াবে আজ। অধিনায়ক লিটনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু এই সিরিজে। যেখান থেকে আরেকটি বিশ্বকাপের স্বপ্নের বুনন শুরু ক্রিকেটারদের।

এই নবযাত্রা জয়যাত্রায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা থাকবে লিটনদের। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক অতীত ভুলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কিউইদের বিপক্ষে একটি ভালো শুরুর আশা করছেন তিনি।

গত টি২০ বিশ্বকাপ ইস্যুতে দুই মেরুতে ছিল এই সিরিজের দল দুটি। বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল বাংলাদেশ, সেখানে নিউজিল্যান্ড ছিল বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট। এক মাস ২০ দিন পরে উপমহাদেশে কিউইরা টি২০ খেলবে। কিউই এই দলে বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটারদের থেকে মাত্র একজন থাকলেও বাকিরাও দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে রানার্সআপ হিসেবে। টম ল্যাথামদের চেষ্টা থাকবে ওয়ানডের মতো কুড়ি-বিশ ওভারের ক্রিকেটেও স্বাগতিকদের একটি ঝাঁকুনি দেওয়ার। দেশের মাটিতে সিরিজ হওয়ায় লিটন কুমার দাসরা ওই চাপটা হয়তো নিতে চাইবেন না। টাইগার বাহিনীর লক্ষ্য টানা জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া।

লিটনের মতে, ‘আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বিশ্বকাপের সময়টাতেও একটা টুর্নামেন্ট খেলেছি, যেখানে ছেলেরা ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছে। সবচেয়ে বড় হলো, আন্তর্জাতিক ম্যাচ প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তারা ওভাবেই চিন্তা করবে এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যে জয়ী মানসিকতা দরকার, সেটা নিয়েই মাঠে নামবে।’

ওয়ানডে ক্রিকেটে মেহেদী হাসান মিরাজকে যেভাবে প্রতিটি সিরিজে পয়েন্টের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতে হয়, লিটনের টি২০ দলকে সে রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। ২০২৮ সালের টি২০ বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হওয়ায় এখন থেকে দল গোছাতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। ওই পরিকল্পনা নিয়েই এগোতে চান লিটন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ২০২৮ সালের বিশ্বকাপ। আমরা জানি সেটি এশিয়াতে নয়। ওভাবেই আমরা চিন্তাভাবনা করব। যেহেতু আমাদের মধ্যে একটি ভালো বোঝাপড়া হয়েছিল এবং গত বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও খুব ভালো ছিল, চেষ্টা করব ওখান থেকেই দলটাকে ধরে রাখতে। অনেক দিন পর আমরা আবার টি২০ সংস্করণে খেলছি। বাড়তি চাপ দিতে চাচ্ছি না। দুই-একটি ম্যাচ খেললে যে যার জায়গা থেকে বুঝতে পারবে। কারণ এখানে সেটআপেরও বিষয় আছে। ভালো দিক হলো, এই বছরের তিনটি সিরিজই ভালো দলের সঙ্গে এবং পিঠাপিঠি সিরিজ আছে।’

লিটনের নেতৃত্বে ২৯টি টি২০ ম্যাচ খেলে ১৫টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। হেরেছে ১৩ ম্যাচে। জয়-পরাজয়ের হিসাবে তিনিই দেশের সফল টি২০ অধিনায়ক। এ কারণেই হয়তো টি২০ দলের নেতৃত্ব তাঁর কাঁধেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মেহেদী মিরাজকে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর লিটনকে ২০২৮ টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক করা হয়েছে।

লিটন জানান, স্বাধীনভাবে অধিনায়কত্ব করতে পারছেন তিনি। তাঁকে একাদশ নির্বাচনেও দেওয়া হয় পূর্ণ স্বাধীনতা। আজকের ম্যাচে তানজিদ ও সাইফ ব্যাটিং ওপেন করবেন আগের মতোই। অধিনায়ক খেলবেন তিন নম্বরে। মিডল অর্ডারে শামীম হোসেন ও তাওহীদ হৃদয় খেলতে পারেন। শেখ মেহেদী, তানজিম সাকিব, রিশাদ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রিপন মণ্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের থেকে বেছে নেওয়া হবে বোলিং লাইনআপ। প্রথম ম্যাচে তিন অভিজ্ঞ পেসারকে খেলাতে পারেন অধিনায়ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here