২০২৩ সালের অক্টোবরের পর আর ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পাননি দেশটির রেকর্ড সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। চোট ও ফিটনেসজনিত কারণে কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঘোষিত কোনো দলেই তিনি ছিলেন না। ফলে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল নেইমারের। অবশেষে ব্রাজিল কোচ তার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ খেলার দুয়ার খুলে দিলেন।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার সময় নেইমার কী করছিলেন তা ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। বান্ধবী বিয়ানকার্দির সঙ্গে চাতক পাখির মতো নজর রেখেছিলেন স্ক্রিনে, আর খাড়া রেখেছিলেন কান। তার নাম ঘোষণার পর দুই হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেলার আবেগঘন মুহূর্তের একটি ভিডিও নেইমার নিজেই তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ছুটে গিয়ে ফিজিওথেরাপিস্ট রাফায়েল মার্টিনি ও ফিটনেস কোচ রিকার্ডো রোসাকে জড়িয়ে ধরেন। নেইমারের চোট পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাদের।
এখানেই শেষ নয়, বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় নাকি আনন্দে কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছেন সেলেসাও তারকা! সান্তোস ক্লাবের সতীর্থ ও ক্লাব স্টাফদের নিয়ে আলাপকালে নেইমার বলেন, ‘আমার এখনকার অনুভূতি ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমি এখানকার সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। (বিশ্বকাপ দলে) ডাক পাওয়াটা শুধু আমার জন্য নয়, এটা ছিল সেসব মানুষের জন্য যারা এই প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। যারা মাঠে ও মাঠের বাইরে আমার সঙ্গে ছিলেন, আমাদের নিরাপত্তা, শরীর ও খাবারের খেয়াল রেখেছেন।’
বারবার চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে কেঁদেছি, এখানে আসাটা সহজ ছিল না। আমার নাম ঘোষণার পর মনে হলো, যতকিছু (প্রতিকূলতা) পেরিয়ে এসেছি এবং এতসব প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় আমার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা জানেন কত কঠিন ছিল এই যাত্রা।’
৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৭৯টি গোল করেছেন। স্বদেশি কিংবদন্তি ও ফুটবলের রাজাখ্যাত পেলের রেকর্ড ভাঙার পর তিনি আর জাতীয় দলে বেশি সময় ছিলেন না। সব ঠিক থাকলে এবারের বিশ্বকাপ হবে তার চতুর্থ আসর। যেসব ব্রাজিলিয়ান সমর্থক নেইমারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তিকে উদযাপন করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি, ‘সবার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, আপনারা সবসময়ই আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমার পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে এই সমর্থন পেয়ে আসছি। ব্রাজিলের হয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের জন্য ছুটতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি।’
বিশ্বকাপের জন্য ডাক পাওয়া ফুটবলারদের নিয়ে আগামী ২৭ মে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর কথা রয়েছে। এরপর ৩১ মে মারাকানায় পানামার বিপক্ষে একটি বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ খেলবে আনচেলত্তির দল। ১ জুন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা রওনা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে। সেখানে বিশ্বকাপের আগে আরও একটি প্রীতি ম্যাচে ৬ জুন মিশরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।





