নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১২তম আসরে অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথ আয়োজক হলেও তারাই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আয়োজন করছে।
এর আগে ১৯৯৪ সালে বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টের আয়োজক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওইবার তারা শেষ ষোলোতে বিদায় নিয়েছিল। ঘরের মাঠে আরও বড় কিছু করার সুযোগ। বিশ্বকাপটা নিজেদের করে নিতে চায় তারা। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়া দলটি এবার আগের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যেতে চায়।
প্রধান কোচ: মাউরিসিও পচেত্তিনো
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হন মাউরিসিও পচেত্তিনো। গ্রেগ বারহাল্টারের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়িত্ব নেন তিনি। চেলসি, প্যারিস সেন্ট জার্মেই, টটেনহাম, সাউদাম্পটন ও এস্পানিওলের মতো ক্লাবে কাজ করার সুবাদে ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে ব্যাপক কোচিং অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সূচি
১২ জুন: যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে (লস অ্যাঞ্জেলেস)
১৯ জুন: যুক্তরাষ্ট্র বনাম অস্ট্রেলিয়া (সিয়াটল)
২৫ জুন: যুক্তরাষ্ট্র বনাম তুরস্ক (লস অ্যাঞ্জেলেস)
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: কনকাকাফ
বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: সেমিফাইনাল (১৯৩০)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: ২০২২ কাতার (শেষ ষোলো)
প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৩০ উরুগুয়ে
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ১২ বার (১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৫০, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০২২, ২০২৬)
টানা অংশগ্রহণ: দুইবার (২০২২ ও ২০২৬)
বিশ্বকাপ স্বাগতিক: ১৯৯৪, ২০২৬
সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ খেলেছে ৩৭টি; জয় ৯টি, ড্র ৮টি, হার ২০টি; গোল করেছে ৪০টি, গোল হজম করেছে ৬৬টি।
ফিফা র্যাংকিং: ১৬তম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিশ্বকাপ
উরুগুয়ের মন্টেভিডিওতে ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ১৩ দেশের মধ্যে একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। চার গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছিল ১৩ দলকে। বিজয়ীরা সরাসরি খেলেছিল সেমিফাইনালে। প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চারে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের শেষ বিশ্বকাপ
২০২২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, ইরান ও ওয়েলসের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সঙ্গে ড্র এবং ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের গোলে ইরানকে হারিয়ে অপরাজিত থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছিল তারা। তাদের পথচলা শেষ হয় শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে।
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোলদাতা
আইকনিক অ্যাটাকার ল্যান্ডন ডোনোভান যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড বিশ্বকাপ গোলদাতা। তিন টুর্নামেন্টে পাঁচ গোল করেছেন তিনি। ২০০২ সালে কোরিয়া-জাপানে দুটি গোল করেন। এর মধ্যে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে তার দ্বিতীয় গোল ছিল স্মরণীয়। পরের তিন গোল আসে ২০১০ সালের আসরে। ওইবার স্লোভেনিয়া, আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে এবং শেষ ষোলোতে ঘানার বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। ঘানার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা আমেরিকান
এই রেকর্ডও ডোনোভানের দখলে। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ সালে মোট ১২ ম্যাচ খেলেছিলেন। ২০০২ সালে পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতে খেলেন ডোনাভান। ওইবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল দল। চার বছর পর জার্মানিতে আরও তিন ম্যাচ খেলেন ডোনাভান। তারপর দক্ষিণ আফ্রিকায় চার ম্যাচে আমেরিকার জার্সি পরতে দেখা গেছে তাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় জয়
১৯৩০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১১ বিশ্বকাপে ৩৭ ম্যাচ খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দুটি গ্রুপ ম্যাচে এসেছে তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। ৩-০ গোলে বেলজিয়াম ও প্যারাগুয়েকে হারায় তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে বার্ট পাতেনাউদে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক- ক্রিস ব্র্যাডি, ম্যাট ফ্রিস, ম্যাট টার্নার
ডিফেন্ডার- ম্যাক্স আর্ফস্টেন, সার্জিনো ডেস্ট, অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, মার্ক ম্যাকেঞ্জি, টিম রিম, ক্রিস রিচার্ডস, অ্যান্টোনি রবিনসন, মাইলস রবিনসন, জো স্ক্যালি, অস্টন ট্রাস্টি
মিডফিল্ডার- টাইলার অ্যাডামস, সেবাস্তিয়ান বেরহাল্টার, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, ক্রিশ্চিয়ান রোলদান, ব্রেন্ডেন অ্যারনসন, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক, জিও রেয়না, মালিক টিলম্যান, টিমোথি ওয়াহ, আলেহান্দ্রো জেনদেজাস
ফরোয়ার্ড- ফোলারিন বালোগুন, রিকার্ডো পেপি, হাজি রাইট


