নরসিংদীতে শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

0
2

নরসিংদীতে রিজিক নামে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মাধবদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন জেলার প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে মামলাটি দায়ের করেন নরসিংদী প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার।মামলার প্রধান আসামি লতা বেগম। তিনি পালিয়ে গেছেন। অপর আসামিরা হলেন- শিশুটির চাচা ও অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউসার আহমেদ ও তার শ্বশুর আলমাস মিয়া। এ দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাতে মামলা দায়েরের পর দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির পায়ের বর্তমান অবস্থায় যাচাইয়ের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি লতাকে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিজিক নামে শিশুটির সঙ্গে হওয়া একটি অমানবিক ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করতেই গণমাধ্যমও নড়েচড়ে বসে। এ ঘটনার অনুসন্ধান করে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে লতা বেগম এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। রিজিকের বাবা কাউসার এ তথ্য দেন।

তাছাড়া, শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের পর থেকেই শিশুটি প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে কান্না করত। এতে শিশুটির মা সায়েবা বেগমের সন্দেহ হয়। কেউ কি তার অনুপস্থিতির সুযোগে শিশুটিকে নির্যাতন করছে; এমন সন্দেহের ভিত্তিতে সম্প্রতি শিশুটির মা ঘরের ভেতরে গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের ব্যবস্থা করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, রিজিককে তার মা ঘুম পাড়িয়ে ঘরের বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর লতা বেগম ঘরে ঢুকে রিজিকের একটি পা মুচড়ে দিয়ে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যান। এ সময় রিজিকের কান্নার শব্দ পাওয়া যায়। কিছু সময় পরে তার মা ঘরে ঢুকে মোবাইলটি হাতে নেন।

কাউসার মিয়া বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী লতা অগোচরে শিশুটিকে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী ঘরের ভিতর একটি মোবাইলে ভিডিও চালু করে রাখে। শিশুটি কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখেন ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী শিশুটির একটি পা সজোরে মুচড়ে দেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙেনি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে। শিশুটির পা ভাঙার ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অবশ্য এড়িয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে কথা হলে ওসি কামাল হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙেনি। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here