রাতারাতি ঢাকাকে বদলানো সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল

0
2

বিশ্বের তৃতীয় বসবাস অযোগ্য শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকাকে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়তে নাগরিক সচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, নগরের আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যাও বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে নাগরিকদের সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ-সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুদের মধ্যে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও দেশ গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে।

মন্ত্রী বলেন, নগরের মেয়র বা প্রশাসক অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় অবস্থায় থাকেন। কারণ, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এই সমন্বয়হীনতার কারণে নগরবাসীকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুম এলেই রাজধানীতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হলো, এ সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেটের অর্থ ছাড় হয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য প্রতিষ্ঠান একই সড়কে কাজ শুরু করে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ সব ধরনের নাগরিক সেবায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এজন্য সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে এখনো নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মানুষ নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলে। এ পরিবর্তনের জন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই। নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগী বলেন, আমরা নতুন করে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এ কাজে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা কোনো দল দেখতে চাই না, বাংলাদেশকে দেখতে চাই। ঢাকার নাগরিক হিসেবে যে দায়িত্ব আমাদের, তা সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে প্রতিদিন মেঘনা নদীর ৫০ কোটি লিটার পানি বিশুদ্ধ করে ঢাকা শহরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে রাজধানীর নিজস্ব নদীগুলোকে রক্ষা করাই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। কারণ, এ সময় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় হয়। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা কঠিন হলেও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here