লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের পর সৌদি আরবের এক যুবরাজের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি আদালত জানিয়েছেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বরং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউই আল সৌদ (২৯)।
তার ময়নাতদন্ত ও টক্সিকোলজি প্রতিবেদনের বরাতে আদালতে জানানো হয়, গত বছরের ২৫ নভেম্বর মারা যাওয়া এ যুবরাজের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ২২২ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল ছিল। সেসময় পশ্চিম লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লন্ডনে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু
ইরানে টানা ১৩তম রাতে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় তিনি শেষবারের মতো সিগারেট খাওয়ার জন্য রুমের বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে হোটেলের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী তার কক্ষের বাথরুমের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তার শরীরে অ্যালকোহল ছাড়াও পার্টি ড্রাগ হিসেবে পরিচিত গামা-হাইড্রোক্সিবিউটিরেট (জিএইচবি), গাঁজা, জ্যানাক্স (অ্যালপ্রাজোলাম) এবং অন্যান্য অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধের উপস্থিতিও পাওয়া যায়।
আদালতে জানানো হয়, যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ দীর্ঘদিন ধরে অ্যালকোহল ও জ্যানাক্স ব্যবহারের সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে তিনি লন্ডনের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে অ্যালকোহল, বেনজোডায়াজেপিন ও প্রেগাবালিনের আসক্তি কাটানোর চিকিৎসা নেন। পরে তিনি সেন্ট হেলেন্সে অবস্থিত আরেকটি ক্লিনিকেও চিকিৎসা নেন এবং সেখান থেকে ১৪ অক্টোবর ছাড়পত্র পান।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ভিক্টোরিয়া চামোরো আদালতে বলেন, চিকিৎসার সময় যুবরাজ অন্য রোগীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাকে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে হয়নি। নির্ধারিত ফলোআপ সেশনে তিনি অংশ না নিলেও তার নিরাপত্তা নিয়ে তখন কোনো উদ্বেগ ছিল না।
ময়নাতদন্তে আরও বলা হয়, তার কোনো গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। তবে মাদক ও অ্যালকোহলের সম্মিলিত প্রভাবে তার হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়।
রায়ে আদালত বলেন, এটি আত্মহত্যা নয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি একাই ছিলেন। তাই তিনি ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে রায় দেন এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘একাধিক মাদক গ্রহণ’ উল্লেখ করেন।
যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ সৌদি বাদশাহ সালমানের প্রপিতামহের বংশধর ছিলেন।




