২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে টেনিস ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছিলেন রজার ফেদেরার। বিদায়বেলায় চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েছিলেন এই সুইস কিংবদন্তি। আবারও কাঁদলেন তিনি হল অব ফেমে অভিষিক্ত হওয়ার মঞ্চে।
রড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে একটি অনুষ্ঠানে রাজকীয় এই অভিষেকের পর বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ফেদেরার। ২০ বারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী একে ‘জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
৪৫ বছর বয়সী বললেন, ‘এটা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান। তারা এটাকে হল অব ফেম বলছে, কিন্তু খ্যাতি পাওয়ার লক্ষ্য কখনও ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করে জীবন পার করা, যেটা করতে আমি ভালোবাসি এবং এমন কিছু মানুষদের সঙ্গে যাদের আমি ভালোবাসি।’
আটবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন কিছু কম পরিচিত মাইলফলকের কথাও প্রকাশ করলেন, ‘মেজর জয়ের সংখ্যা ও সপ্তাহের পর সপ্তাহ এক নম্বরে থাকা পরিসংখ্যান নয়। আমি এমন কিছু সংখ্যা নিয়ে কথা বলছি যেটা সত্যিই একটি ছবি এঁকে দেয়। ১৯৯৮ সাল থেকে যখন আমি প্রথমবার এটিপি ট্যুরে যাই এবং ২০২২ সালে আমি যখন অবসর নেই, এর মধ্যে আমি ৫ হাজারের বেশি হেডব্যান্ড পরেছি, সেটা (বিয়র্ন) বোর্গ ও (জন) ম্যাকএনরোর সম্মিলিত হেডব্যান্ডের চেয়ে বেশি। আপনারা যদি মনে করেন এটা অসাধারণ, আমি আরও বলছি। আমি সম্ভবত হাজার জোড়ার বেশি মোজা পরেছি। আমার বেশিরভাগ প্রতিপক্ষের চেয়ে সম্ভবত দ্বিগুণ, কারণ আমি মোজাগুলো জোড়ায় জোড়ায় পরেছিলাম।’
বাসেলের একটি এটিপি টুর্নামেন্টে ১৩ বছর বলবয় হিসেবে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। ফেদেরার সেই কথা ভুলে যাননি, ‘এখানে থাকতে পারার মানে কী, সেটা সত্যিই পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই। ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমি সত্যিই প্রত্যেক বলবয়কে ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা আমার ম্যাচ কিংবা আমাদের সব ম্যাচজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আমি তোমাদের দেখি, তোমাদের ধন্যবাদ জানাই, আমি তোমাদের একজন ছিলাম।’
ক্যারিয়ারজুড়ে অনুপ্রেরণা যাদের কাছ থেকে পেয়েছেন, সেই আইডল স্টেফান এডবার্গ, অন্য টেনিস তারকা, পরিবার এবং সাপোর্ট স্টাফদের নাম বলতে গিয়ে চোখের জল মুছতে দেখা গেল তাকে। হেসে বললেন, ‘এই মুহূর্তে নিজেকে বাঁচাতে আমার টিস্যু, সানগ্লাস ও সবকিছু প্রয়োজন। সত্যিই কী যে একটা অবস্থা!’
ফেদেরার বললেন, ‘এটা অসাধারণ এক যাত্রা। আমার জন্য আন্তর্জাতিক টেনিস অব ফেম পেছনে ফিরে তাকানোর দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে, সামনে তাকানোরও। আপনারা বলতে পারেন, আমি এখনও টেনিসকে আমার প্রেমপত্র লিখছি। খেলোয়াড় হিসেবে আমার সময় শেষ, কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় সবকিছু—আমার পরিবার, আমাদের বন্ধুত্ব, বিগত ৪০ বছর এবং আমরা যে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি এর কেন্দ্রবিন্দুতে টেনিস চিরকাল থাকবে। আমার কাছে এই সবকিছুর জন্য টেনিসই দায়ী।’





