মিথ্যাচারে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না আশাবাদ ফখরুলের

0
433

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মিথ্যাচারে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছি। এটা অপরাধ হলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মকর্তারা পর্যন্ত একই অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু যে সরকার প্রার্থী, ভোটার এবং ভোট ছাড়া নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে জোর করে রাষ্ট্র চালাতে লজ্জাবোধ করে না তাদের কাছ থেকে পক্ষপাতমূলক বক্তব্য ও আচরণ ছাড়া আর কি আশা করা যেতে পারে।’

শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে নানা বাধা বিপত্ত্বির মধ্যেও মিডিয়া ও সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসী প্রকৃত তথ্য পরিস্কার ভাবে জেনে গেছেন বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ক্রমাগত মিথ্যাচারে তারা বিভ্রান্ত হবেন না।’

ছাত্রদের অন্দোলন থেকে বিএনপি কোনও অর্জন আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি যৌক্তিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। এই আন্দোলনে প্রতি সারাদেশের মানুষের সমর্থন ছিল। তবে যে পদ্ধতিতে সরকার এটাকে দমন করছে তা সার্বজনিনভাবে দৃক্ষিত হয়েছে। বরং নিরিহ ছাত্রদের ওপর এভাবে নির্যাতন চালিয়ে আওয়ামী লীগ আরো গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারা( আওয়ামী লীগ) সব সময় বিএনপি আতঙ্কে ভুগে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংঠগন এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীগণ ও পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এই শিশু কিশোরদের ৯ দফা দাবী আন্দোলন ও কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আমরাও বিএনপি’র পক্ষ থেকে এবং ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য ও জরুরী এসব দাবী দাওয়ার প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে জনগণের জানমাল রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকার প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র ও উষ্কানী আবিস্কারের অপচেষ্টা চালাতে শুরু করে।’

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জনগণের সব ন্যায্য আন্দোলনেই এই সরকার একই কাজ করেছে এবং এই সুযোগে বিরোধী দলের ও মতের নেতা-কর্মী ও আন্দোলনে সক্রিয়দের বিরুদ্ধে হায়েনার মত আক্রমন চালিয়েছে। তাদের আক্রমনে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীরা গুম হয়েছে, আহত হয়েছে, মিথ্যা মামলায় হয়রানী হয়েছে। প্রবীন রাজনীতিবিদ ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব ড. অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাদের কটুক্তি থেকে রেহাই পাচ্ছে না।’

নিরীহ অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পায়নি উল্লেখ্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারী দলের সিদ্ধান্তেই সরকারী দল ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোস পরে অগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অমানবিক ও বর্বোরোচিত হামলা চালিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করেছে। দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন হোস্টেলে ও আবাসস্থলে গিয়ে ছাত্রদের মারপিট করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এ সব কিছুই ঘটেছে পুলিশের চোখের সামনে এবং তাদের সহযোগীতায়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমন নাকি বিএনপি-জামায়ত কর্মীরা করেছে। যা এদেশের এমন কোন পাগলও নেই যে তারা বিশ্বাস করবে, পুলিশের সহায়তায় এবং তাদের সামনে বিএনপি-জামায়ত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করবে, দায়িত্বপালনরত সাংবাদিকদের কোপাবে, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমন করবে আর তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘হেলমেট পড়া ও মুখোসধারী আক্রমনকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী ছিল এটা আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বলার পরেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়। তারাই পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সেই পুলিশ তাদেরই নির্দেশে হেলমেট ও মুখোসধারীদের মানুষ কোপানোর এবং অতঃপর নির্বিঘ্নে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পর হামলায় আহতদের কাছে নাম চাওয়া একটা নোংরা রসিকতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।’

মন্ত্রীসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমদন করেছে তা ইতোমধ্যেই পরিবহণ মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংশোধিত এই আইনে ছাত্র-ছাত্রীদে দাবীকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। কারণ, এই আইনে সড়ক পরিবহণ খাতে মানুষ হত্যা ও অনাকাক্ষিত দূর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিক নির্দেশনা কিম্বা কঠোর শাস্তির বিধান নেই। ‘

তিনি বলেন, ‘দূর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকান্ড বলা হবে কি না এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিরপেক্ষ যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সাথে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবী জানাচ্ছি।’

‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংস কোন কর্মকান্ডে বিএনপি কখনো জড়িত ছিল না। যারা পুলিশের সামনে হেলমেট ও মুখোশ পড়ে সহিংসতা করেছে সাংবাদিকসহ আন্দোলনকারীদের উপর নির্মম হামলা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার আমরা জোর দাবী জানাচ্ছি ‘

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায় ভাবে কারারুদ্ধ করে রেখেছে সরকার এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। নানা বাহানায় তাঁর মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে সারা দেশে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা চালিয়েও সরকার নিজেদের নিরাপদবোধ করছেন। তারা দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্কে হাস্যকর ও বানোয়াট গল্প প্রচার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সব কিছুর উদ্দেশ্য একটাই এক দলীয় স্বৈরাশাসন কায়েমের সরকারী নীল নকশা বাস্তবায়ন করা।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here