চিকিৎসায় যৌথ নোবেল তাসুকো ও এলিসনের

0
194

দেশইনফো ডেস্ক: এবছর চিকিৎসা শাস্ত্রে যৌথভাবে নোবেল প্রাইজ পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেমস পি এলিসন ও জাপানের তাসুকো হনজো। সোমবার জুরিদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ক্যান্সার চিকিৎসা বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জনের জন্য তাদের নোবেল মেডিসিন প্রাইজ ২০১৮ দেয়া হয়।

নোবেল এসেম্বলি জানায়, মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসা পদ্ধতি আবিস্কারের জন্য এই দু’জনকে সম্মানিত করা হয়।

১৯৪৮ সালের ৭ আগস্ট জন্ম নেন আমেরিকান প্রতিষেধক বিশেষজ্ঞ জেমস পি এলিসন। তিনি এম.ডি এন্ডারসন ক্যান্সার সেন্টার এর প্রতিষেধক-থেরাপি এর কার্যনির্বাহী সম্পাদক এবং প্রতিষেধক বিভাগের প্রধান ও অধ্যক্ষ। তার আবিষ্কার প্রাণঘাতী ক্যান্সারের বিরুদ্ধে নব চিকিৎসার সুচনা করে।

তিনি ক্যান্সার রিসার্চ ইন্সটিউট বিজ্ঞান পরিষদ কাউন্সিলের পরিচালক। তিনি প্রথম টি-কোষ এন্টিজেন রিসেপ্টর কমপ্লেক্স প্রোটিনকে পৃথক করেন। তিনি ২০১৪ ও ২০১৮ তে তাসাকু হনজো এর সাথে যুগ্নভাবে যথাক্রমে ঔষুধপ্রস্তুত বিজ্ঞানে ট্যাঙ পুরস্কার এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
পরিচ্ছেদসমূহ

তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট জেমস এলিসন ৭ আগস্ট ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আলবার্ট ও কন্সট্যান্স এলিসনের সন্তান। ৮ম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তার গণিত শিক্ষককে দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। তখনি সিদ্ধান্ত নেন বিজ্ঞানের দুনিয়াতেই নিজের পেশা বাছাই করবেন। ১৯৬৯ সালে এলিসন মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতক করেন। সেখানে তিনি ডেল্টা কাপ্পা এপসিলন সম্মেলনের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সালে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি জীববিজ্ঞানের উপর পিএইচডি করেন। তার পিএইচডি উপদেষ্টা ছিলেন জি. ব্যারি কিটো।

১৯৮৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্সার রিসার্চ পরীক্ষাগারের প্রধান এবং প্রতিষেধক বিভাগের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৪ সালে তিনি নিউ ইয়র্ক শহরের মেমরিয়াল স্লোন কেটারিনফ ক্যান্সার সেন্টারে চলে যায় এবং লুইডগ সেন্টার ফর ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপির পরিচালক ও ইমিউনোলজি প্রোগ্রামের প্রধান হন।

তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত হওয়ার্ড হুফস মেডিক্যাল ইন্সটিউটের ইনভেস্টিগেটর ছিলেন এবং এরপর এম.ডি এন্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারে ২০১২ তেই যোগদান করেন। তিনি এম.ডি এন্ডারসনে প্রতিষেধক বিভাগের প্রধান হিসেবেই নিয়োগ পান।

তিনি ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্স ও ইন্সটিউট অব মেডিসিনের সদস্য এবং আমেরিকান একাডেমী অব মাইক্রোবায়োলজি ও আমেরিকান এসোসিয়েশন ফর দ্য এডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের ফেলো। তিনি ক্যান্সার রিসার্চ ইন্সটিউট বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা পর্ষদের পরিচালক। পুর্বে তিনি মার্কিন প্রতিষেধবিজ্ঞানীদের সংস্থার সভাপতি ছিলেন।

২০১১ সালে এলিসন জৈবপ্রযুক্তি এবং ঔষধী বিভাগ থেকে জ্যাকব হেসকেল গ্যাবে পুরস্কার এবং আমেরিকান এসোসিয়েশন প্রতিষেধকবিজ্ঞানী লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান। ২০১৩ সালে তিনি যুগ্নভাবে নোভার্টিস পুরস্কার পান।

২০১৪ সালে তিনি জৈবওষুধ বিভাগ থেকে তাসুকু হনজোর সাথে যুগ্নভাবে ট্যাং পুরস্কার পান। তিনি ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ থেকে ক্যান্সার গবেষণায় অবদানের জন্য নবম বার্ষিক সেন্ট গ্রিওরী পুরস্কার পান। ৩ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইভ সায়েন্স পান, অর্জন করেন কানাডা গাইরডনার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার অর্জন করেন।

এদিকে, তাসুকো হনজোও ইমিউন সেলের ভেতরে ওই প্রোটিনের অভ্যন্তরীণ গুণাবলি বা প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করতে গিয়ে এর ভেতরের ‘গতিরোধক’ বৈশিষ্ট্যগুলো দেখেন, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মেকানিজমে ক্রিয়াশীল হয়। হনজোর এই আবিষ্কার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

তাসুকো হনজো ১৯৪২ সালে জাপানের টোকিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ডক্টর অব মেডিসিন (এমডি) হন এবং ১৯৭১ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত রিসার্চ ফেলো হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের কার্নেগি ইনস্টিটিউট অব ওয়াশিংটনে এবং মেরিল্যান্ডের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে’ কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন।

১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি টোকিও ইউনিভার্সিটিতে এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ওসাকা ইউনিভার্সিটিতে অনুষদ সদস্য হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৮৪ সাল থেকে তিনি কিয়োটো ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০০ এবং ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কিয়োটো ইউনিভার্সিটির অনুষদ ডিন হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

অ্যালিসন ও হনজো তাঁদের গবেষণালব্ধ ফলাফল ও প্রক্রিয়ায় দেখিয়েছেন যে ক্যান্সারের চিকিৎসায় ইমিউন সিস্টেমের বাধাদানকারী প্রোটিনের বৈশিষ্ট্যগুলো নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে মারাত্মক ক্যান্সার রোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে চিকিৎসাবিদ্যায় এই দুই নোবেল বিজয়ীকে একটি করে সোনার মেডেল, নোবেল ডিপ্লোমা ছাড়াও প্রায় ১০ কোটি টাকা সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here