এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বাকি অংশও খুলবে

0
70

অর্থায়নে জটিলতা, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে আগামী বছরের জুনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট-চিটাগাং রোড অংশ চালু হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট অংশ উদ্বোধন করেন। পরের দিন শুরু হয় যান চলাচল। সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই অংশে টোল আদায় হয়েছে ১০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গাড়ি চলাচল করে ১ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৯টি। এর মধ্যে ১ কোটি ২৩ লাখ ৬৯ হাজার প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। বাস ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি। বাকিগুলো পণ্যবাহী যানবাহন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শুরুর দিকে দুর্বৃত্তের হামলায় মহাখালী ও বনানী টোল প্লাজা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত ১৯ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১১ আগস্ট আবার যান চলাচল শুরু হয়। সেদিন ১৭ হাজার ৪৫৯টি গাড়ি চলাচল করে। টোল আদায় হয় ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি ৬৭ হাজার ৫৪৩টি গাড়ি চলাচল করে গত ১৩ জুন। এই এক্সপ্রেসওয়েতে দিনে গড়ে গাড়ি চলছে ৩৮ হাজার ৩৫১টি।

প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পুরো প্রকল্প চালু হলে, দিনে ৮০ হাজারের বেশি গাড়ি চললে টোলের ২০ শতাংশ পাবে সরকার। অর্থাৎ, ৮১ হাজার গাড়ি চললে বাড়তি ১ হাজার গাড়ির টোলের ২০ শতাংশ সরকার পাবে।’ পুরো পথ চালুর পর দিনে লাখের বেশি গাড়ি চলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু কবে চালু হবে পুরো এক্সপ্রেসওয়ে– এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক জানান, আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় রয়েছে। তিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরোধে সমস্যা হয়েছে, এখনও হচ্ছে।

১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিনিয়োগকারী ইতালিয়ান থাই ডেভেলমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের (ইতাল-থাই) সঙ্গে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকায় সংশোধিত চুক্তি করে সেতু বিভাগ। চুক্তি অনুযায়ী মূল অবকাঠামো নির্মাণে ইতাল-থাই ৬ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এজন্য চীনের দুই ব্যাংক থেকে ৮৬১ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (ভিজিএফ) বাবদ সরকার দেবে ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। সেই সময় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে ঘোষণা ছিল, ২০১৯ সালেই চালু হবে। পরে আরও তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন করা হয়েছে প্রকল্প মেয়াদ।

এক্সপ্রেসওয়ের সহযোগী হিসেবে সরকার ‘সাপোর্ট টু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নামে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যাতে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও নানা কেনাকাটা রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৮৫৭ কোটি খরচ হবে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে। তবে বিনিয়োগের টাকা জোগাড় করে কাজ শুরু করতেই ছয় বছর লেগেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। বিনিয়োগকারীরা উড়াল সড়ক চালুর পর ২২ বছর টোল আদায় করে বিনিয়োগ করা টাকা মুনাফাসহ তুলে নেবে।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত উড়াল মহাসড়ক প্রস্তুত হলেও সেখান থেকে মগবাজার, মালিবাগ হয়ে খিলগাঁও পর্যন্ত শুধু পিলার উঠেছে। কমলাপুর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মাণকাজ রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে। প্রকল্প পরিচালক জানান, বর্তমানে কাজ করছে চীনের বিনিয়োগকারীরা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে কাজে গতি আসবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here