আর্মিস্টিস কমেমোরশনে অংশগ্রহণ করতে সোমবার (১১ নভেম্বর) ফ্রান্স যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রতীকী সমাপ্তি দিবস পালন ও যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাজ্যের কোনও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও পরবর্তী বিভিন্ন সংঘাতে নিহত যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাবেন স্টারমার। সে সময় তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ফরাসি ও ব্রিটিশ প্রবীণ যোদ্ধারা। প্যারিস কমেমোরেশনে যোগ দেওয়া সর্বশেষ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনসটন চার্চিল। তৎকালীন ফরাসি নেতা জেনারেল শার্ল দ্য গলের আমন্ত্রণে ১৯৪৪ সালে তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
স্টারমার বলেছেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর পাশে থাকার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত। জীবন দানকারী বীরদের জন্যই আজ আমরা স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করতে পারছি।
তিনি আরও বলেছেন, লাখ লাখ তরুণ যোদ্ধা, নাবিক ও বিমানচালকের স্মৃতিকে জীবিত রাখার জন্য এরকম আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে প্যারিস যাচ্ছেন স্টারমার। এটি দুই দেশের আন্তরিক ও টেকসই সম্পর্কের প্রতীক বলে স্টারমারের কার্যালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বেশকিছু দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে দুই নেতার মধ্যে। তাদের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও গাজার মানবিক বিপর্যয় সংক্রান্ত বিষয়গুলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তি ও ইউরোপে মিত্রশক্তির জয়ের ৮০তম বার্ষিকী উদ্যাপনের জন্য এক কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দের ঘোষণার পরেই প্যারিস সফরে যাচ্ছেন স্টারমার।
স্টারমার বলেছেন, আগামী বছর ‘ভিক্টোরি ইন ইউরোপ’ ও ‘ভিক্টোরি ওভার জাপান’ এর ৮০তম বার্ষিকীর স্মরণে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে সরকার। এর মাধ্যমে আমাদের জাতীয় ঐক্য ও শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের অঙ্গীকার পূরণ করব।


