সকলের কাছে দোয়া চান ম্যাটাডোরের প্রতিষ্ঠাতা শাহ আলম

0
130

আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ি হিসেবে পরিচিতি পেলেও মূলত তিনি স্বনামধন্য একজন আইনজীবী। বাংলাদেশে প্রথমসারির একজন শিল্প উদ্যোক্তা ও সফল ব্যবসায়ি হিসেবে তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ম্যাটাডোর গ্রুপে প্রায় ৪ হাজার কর্মচারি এবং কর্মকর্তা জীবিকা নির্বাহ করছে। তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল চাকুরীজীবীদের যথাসময়ে বেতন পরিশোধ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এই জনহিতৈষী সমাজসেবকের। পুরান ঢাকার এই কৃতি সন্তান শাহ আলম উকিল নামে বেশি পরিচিত এবং তিনি শুরু থেকেই লালবাগ হাজারীবাগ এলাকার জাতীয়তাবাদী চিন্তা চেতনার একজন উদারপন্থী সমাজসেবক, ইসলামিক চিন্তাবিদ ও জনহিতৈষী মানুষ হিসেবেও সুপরিচিত। এলাকার গরীব দুঃখীদেও আইনের সেবাসহ আর্থিকভাবে তিনি সাহায্য দেয়ায় পুরান ঢাকায় তিনি একজন দানবীর হিসেবে পরিচিত। তবে তিনি দান করার ক্ষেত্রে ছিলেন প্রচার বিমুখ। গণমাধ্যম বা মিডিয়া থেকে দূরে থেকেছেন।

এমন সজ্জন ব্যক্তির জীবনাচরনে উজ্জীবিত হয়ে তাঁর সাথে কথা বলেছেন দেশইনফো সম্পাদক। জীবন সায়াহ্নে এসে তাঁর চাওয়া-পাওয়া এবং সফলতা-ব্যর্থতার গল্প শুনিয়েছেন তিনি। দেশইনফোর পাঠকদের জন্য চুম্বক অংশটুকু তুলে ধরা হলো।

দেশইনফো: কেমন আছেন আপনি?
শাহ আলম: আলহামদুলিল্লাহ। সকলের দোয়ায় ভালোই আছি।

দেশইনফো: ম্যাটাডোর সম্পর্কে বলেন?
শাহ আলম: আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে যা করার আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসীর জন্য ভালো কিছু করে যেতে চেয়েছি। আমি আমার জানামতে এলাকাবাসী এবং আমার স্বজনদের মঙ্গল কামনা ছাড়া কোনদিন অমঙ্গল কামনা করি নাই। ১৯৮০ সালে ম্যাটাডোর পেন দিয়ে ব্যবসায়িক জগতে পা রাখি। আমি এবং আমার শ্রমিকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ম্যাটাডোর গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ হিসেবে বর্তমানে দেশে এখন সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান। স্টেশনারি, ব্যক্তিগত যত্ন পন্য, খাদ্যপন্য, নির্মাণ সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রী, বিনোদন এবং স্বাস্থ্য সেবা বা হাসপাতালসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছি।

দেশইনফো: আরও কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?
শাহ আলম: আছে। আমি যা করতে পারিনি, আমার সন্তানেরা তা করবে এটাই আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করছি। আপনারা সবাই আমার ও আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।

দেশইনফো: ব্যবসায়িক না সমাজসেবক কোন পরিচয়ে বেশি তৃপ্ত আপনি?
শাহ আলম: এলাকায় রফিকুল ইসলাম মোল্লা মাদ্রসা এবং মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছি যার ব্যয় কোটি টাকার উপরে। হাজারীবাগ বোরহানপুর জামে মসজিদ তৈরি করেছি সৌদি আরবের মসজিদের আদলে। কাজিরবাগ মসজিদ মাদ্রাসা, আজিম উদ্দিন হুজুরের এতিমখানা, ম্যাটাডোর স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদ, চাঁদপুর হাজিগঞ্জ জয়সারা চৌধুরী বাড়ী মসজিদ, মাদ্রাসাসহ এতিমখানায় আমি সাধ্যমত দান করি। এছাড়া ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মানে অর্থ সহায়তা দিয়েছে। এছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জ জেলায় নির্মিত মসজিদ ছাড়াও সারাদেশের শত শত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। এসব কাজের বাইরেও মনে শান্তি আনে এমন কাজের তালিকায় সবার উপওে রয়েছে অস্বচ্ছল মানুষদের হজ¦ করানো। এই কাজটা করে আমি সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি পাই।

দেশইনফো: ম্যাটাডোরের কর্মচারীদের নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
শাহ আলম: ম্যাটাডোর আমার যৌবনের প্রথম উদ্যোগ। এই উদ্যোগের কারণেই আজ আমি মানুষের উপকার করতে পারছি। সুতরাং এখানকার কর্মচারিদের জন্য কোয়াটার, তাদের সন্তানদের জন্য আর্থিক সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, এলাকার বেকারত্ব দূর করেছি। তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছি ম্যাটাডোর হাসপাতাল।

দেশইনফো: রাজনীতি করার কোন আগ্রহ আছে কি?
শাহ আলম: দ্যাখেন, আমি একজন আইনজীবী ও ব্যবসায়ি। সরকার আসে সরকার যায়। আমি সরাসরি কোন দলকেই সাপোর্ট করি না। আমার সন্তানেরাও তাই। আমার একটাই দল, আমি মুসলিম, আমি আল্লাহর লোক। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় সকলেই বলতো আমি তাদের লোক, আওয়ামী লীগের সময় বলেেতা আমি তাদেও লোক। কিন্তু দিন শেষে আমি একজন আইনজীবী ও ব্যবসায়ি। পেশাই আমার নেশা। সাধারন মানুষের উপকারে আসি এর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু নাই।

দেশইনফো: নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
শাহ আলম: কর্মজীবনের শুরুতে স্বাভাবিকভাবে যুদ্ধ চালাতে হয়েছে। দিন-রাত পরিশ্রমের পর দাঁড়িয়েছে একটার পর একটা প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে পেয়েছি আর্থিক স্বচ্ছলতা। পরবর্তীতে আমার সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ভালোকিছু করতে চেয়েছি, যার সবটুকুই দৃশ্যমান। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। বাকিটা এলাকাবাসী বলতে পারবে আর আপনারা যারা গণমাধ্যমকর্মী আছেন তারা বলতে পারবেন।

দেশইনফো: আপনাকে ধন্যবাদ।

শাহ আলম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here