টানা দ্বিতীয় রাতেও রাশিয়ায় বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গতকাল মঙ্গলবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার রাতে ইউক্রেন প্রায় ২০০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী রাতভর ১৮৪টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এরপর সকালে গুলি করে আরও ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয় বলে জানায় তারা।
মস্কোর পূর্বাঞ্চলীয় নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের ডজারঝিনস্ক শহরে ৩০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। শহরটির গভর্নর গ্লেব নিকিতিন জানান, কিছু ধ্বংসাবশেষ শিল্প এলাকায় পড়লেও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। ইউক্রেন দাবি করেছে, প্রধান বিস্ফোরক উৎপাদন কেন্দ্র ওয়াই এম স্বেরদলভ বিস্ফোরক কারখানায় আঘাত হেনেছে তাদের ড্রোন। তবে হামলায় কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভোরোনেজ ও বেলগোরোদ অঞ্চলে। এর আগে সোমবার রাতে ২৫১টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছিল রাশিয়া।
এদিকে ইউক্রেনের ১৪১তম মেকানাইজড ব্রিগেড সিচনে এলাকায় সফল আক্রমণ চালিয়ে ৫০ রুশ সেনাকে হত্যা ও আটজনকে বন্দির দাবি করেছে। দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক সীমান্তে অবস্থিত অঞ্চলটিতে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, শেষ কিছুদিনের পাল্টা আক্রমণে ইউক্রেন কমপক্ষে সাতটি বসতি পুনরুদ্ধার করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে টমাহক দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছেন তিনি। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছি, শুধু জানতে চাই, এগুলো কোথায় ব্যবহার করা হবে।’ ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইউক্রেনে সংঘর্ষ বাড়াতে চান না। তবে রাশিয়ার অনড় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবাচ্ছে।
বহুদিন ধরেই এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে ইউক্রেন। এই ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেলে মস্কো পর্যন্ত হামলার সক্ষমতা পাবে কিয়েভ। তবে টমাহক সরবরাহ ‘চলমান যুদ্ধে নতুন পর্যায়ের উত্তেজনা’ আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন।





