বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাউবি

0
2

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত “বাউবিতে নিয়োগ-পদোন্নতি বাণিজ্যসহ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড়” শীর্ষক প্রতিবেদনটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর মাননীয় উপাচার্য, ট্রেজারার, সাবেক রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে অসত্য, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছেন বাউবি কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বাউবি’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ খালিকুজ্জামান প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ব্যাপারে তাদের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদনে রেজিস্ট্রার পদ শূন্য হওয়ার আগেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে—এ মর্মে উত্থাপিত অভিযোগকে সম্পূর্ণ অসত্য দাবি করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পদ শূন্য হওয়ার পরই যথানিয়মে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, রেজিস্ট্রার ও সেকশন অফিসার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা হয়েছে—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাউবির নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। নিয়োগ প্রক্রিয়া লিখিত পরীক্ষা, কম্পিউটার টেস্ট, ভাইভা এবং বোর্ড অব গভর্নরস-এর অনুমোদনের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত অভিযোগও সত্য নয়। বাউবি আইন-১৯৯২ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নিয়োগ ও পোস্টিং প্রদান আইনসম্মত।
একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এ অভিযোগ বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যাচাই-বাছাই কমিটির অনুমোদনক্রমে যোগ্য প্রার্থীদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে ভাইভা, বোর্ড অনুমোদন ও যোগদানকে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ অজ্ঞতাপ্রসূত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যে কোনো সময় বোর্ড সভা আহ্বান ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আইনসম্মত।

এতে বলা হয়, উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও আর্থিক দুর্নীতির যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, মানহানিকর ও হলুদ সাংবাদিকতার শামিল। সরকারি বিধি মেনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে যানবাহন ক্রয় করা হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা এনেছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত। তাঁকে নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদ প্রকাশ অত্যন্ত দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য না নিয়েই একতরফাভাবে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।

এমতাবস্থায়, উক্ত প্রতিবেদনটির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই প্রতিবাদলিপিটি আপনার সম্মানিত পত্রিকার যথাযথ স্থানে প্রকাশ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় বাউবি কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here