নাগরিকদের ধোঁকা দিয়েছেন নেতানিয়াহু

0
18

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ইসরায়েলের জন্য এমন এক ‘কূটনৈতিক বিপর্যয়’, যা আগে কখনও দেখেছেন বলে তার মনে পড়ে না। বুধবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবদেনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইয়ার লাপিদ বলেছেন, ‘‌‘কয়েক ঘণ্টা, এক দিন বা দুই দিন পর, অথবা যখনই তিনি মনে করবেন যে তিনি বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন, তখনই নেতানিয়াহু ইসরায়েল রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবেন এবং ইরানের এই অভিযান সফল হয়েছে বলে বোঝানোর চেষ্টা করবেন।’’

‘‘এটি হবে একটি ডাহা মিথ্যা। সেনাবাহিনী চমৎকার কাজ করেছে; বিশ্বের সেরা বিমানবাহিনী তাদের কাছে যা চাওয়া হয়েছিল তার চেয়েও বেশি করেছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘নেতানিয়াহু আমাদের একটি কৌশলগত বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে গেছেন। এটি তার চেয়ে কম কিছু নয়।’’

‘‘আমরা যা দেখেছি তা ছিল ঔদ্ধত্য, দায়িত্বহীনতা, পরিকল্পনার অভাব, অবহেলার সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট সামলাতে ব্যর্থতা এবং আমেরিকানদের কাছে মিথ্যা বলার এক লজ্জাজনক সংমিশ্রণ, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যকার বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘সবগুলো সম্ভাব্য ফলাফলের মধ্যে নেতানিয়াহু সবচেয়ে খারাপটিই বয়ে এনেছেন: ইরানের শাসনব্যবস্থাকে পরাজিত করা যায়নি, পারমাণবিক হুমকি দূর হয়নি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের প্রতিটি বাড়ির দিকে তাক করা অবস্থাতেই রয়ে গেছে।’’

লাপিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের নাগরিকদের ধোঁকা দিয়েছেন, তার সহযোগীদের প্রতারিত করেছেন এবং ধারাবাহিকভাবে কিছু নাটকীয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে এমন এক কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন যার কোনও অস্তিত্বই ছিল না।’’

‘‘এই যুদ্ধ এমনভাবে পরিচালিত হয়েছিল যেন ইসরায়েল রাষ্ট্রের নাগরিকরা সরকারের কামানের গোলা। আশ্রয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই, শিক্ষা বা ক্ষতিপূরণের কোনও পরিকল্পনা নেই, এমনকি বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের জন্যও কোনও পরিকল্পনা নেই—কিছুই নেই! নাগরিকদের নিয়ে কোনও উদ্বেগ ছিল না।’’

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘‘আসলে যা ঘটেছে তা হলো, নেতানিয়াহু আদর্শিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধে গিয়েছিলেন, কিন্তু এটি কীভাবে শেষ করবেন সে সম্পর্কে তার কোনও ধারণাই ছিল না। যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা জিতেছি; কিন্তু কূটনৈতিক ফ্রন্টে এটি এক চরম পরাজয়।’’

‘‘রাজা পিরাসের ভাষায় বলতে হয় : এমন আরও একটি বিজয় আমাদের সর্বনাশের কারণ হবে।’’

এদিকে, আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাটস দলীয় চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান যুদ্ধের শুরুতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে ‘ভুল’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। এই হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলের নিরাপত্তায় কোনও অবদান রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here