নোমান গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান ‘নাইস স্পান’র বিরুদ্ধে ব্যাংক দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ দাখিল করা আবেদন আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট । ৭ ডিসেম্বর রোববার বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার আদালত রুল জারি করে আবেদনকারীর দরখাস্ত আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন । এ বিষয়ে আদালত রুলও জারি করেছেন।
লোহাগড়ার অধিবাসী আনোয়ার হোসেন আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন । অভিযোগ রয়েছে, নাইস স্পান গাজীপুরের মাওনা মৌজায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বন্ধক রেখে প্রায় এক হাজার ৭৫ কোটি টাকা লোন নেওয়ার বিষয় এবং মানিলন্ডারিং এর অভিযোগের বিষয়ে ২০২৪ সালে দুদকে একটি আবেদন দাখিল করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি ।
আদালত এই মর্মে রুল জারি করেছেন যে, নোমান গ্রুপের নাইস স্পান কর্তৃক গাজীপুরে মাওনা মৌজায় মাত্র প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বন্ধক রেখে ১০৭৫ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছেন সেই ব্যাপারে তদন্ত করতে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও মাটিলন্ডারিংয়ের বিষয়ে নোমান গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।
শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষের কৌশলী সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, দুদকের ১৭ ধারায় দুর্নীতি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ সম্পর্কে কোনো অভিযোগ পেলে দুদক নিজে অথবা অন্য কোনো সূত্র থেকে পাওয়া অভিযোগ দুদক অনুসন্ধান করবে । কিন্তু আইন অমান্য করে দুদক নোমান গ্রুপের দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল । তিনি আদালতে আরো বলেন, নোমান গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলেও কোনো এক অজানা কারণে তা তদন্ত করা হয় না ।
রিট পিটিশনার হলেন লোহাগড়ার আনোয়ার হোসেন । বিবাদীরা হলেন দুদকের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ মোট সাতজন । রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল । দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম বাঁধন।





