৫ আগস্ট সকালে ৪৬তম ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ইমরান হামিদকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তিনি গণভবনের পরিবর্তে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন। এদিকে ঢাকার গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। ভাষণের সময় নিয়ে কিছুটা দোদুল্যমানতার পর, বিকাল ৪টায় তিনি ক্যান্টনমেন্টে সংবাদ সম্মেলনে বলেন: “প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং আমি দায়িত্ব নিচ্ছি ।
শেখ হাসিনাকে গণভবন থেকে সরিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF) পুরোপুরি অসুরক্ষিত হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের অস্ত্র SSF-এর অস্ত্রাগারে রেখে সংসদ ভবনে আশ্রয় নেয়। অবাক করার মতো বিষয় হলো, সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেনি।
আন্দোলনের বাস্তব চিত্র
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইয়ের মাঝামাঝি শুরু হওয়া কোটা আন্দোলন দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। বাস্তবে কে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে এবং কী ঘটছে—তা কেউ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছিল না। ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত কোনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিহত হয়নি—এমন দাবি উঠে আসে। এই সময়ের মধ্যে ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হলেও তাদের বেশিরভাগই ছিল সাধারণ মানুষ অথবা অজ্ঞাত অস্ত্রধারী ব্যক্তি।
সামাজিক প্রচারণা
সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে: ছাত্রদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে, ছাত্রীদের হলে গণধর্ষণ হয়েছে। এই প্রচারণা সংগঠিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এই অতিরঞ্জিত তথ্য ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদের উত্তেজিত করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করা হয়।
হত্যাকাণ্ড ও তদন্ত
প্রায় ২০০টি মরদেহের ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার পরও মাত্র ৬ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বেশিরভাগ নিহত ব্যক্তি ছিলেন দিনমজুর এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যার শিকার। তাদের প্রায় সবার মাথার পেছনে গুলির আঘাত ছিল। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েও কোনো পৃথক তদন্ত করা হয়নি।
সূত্র: নর্থইস্ট নিউজ।


