শীর্ষ সন্ত্রাসী মনা গ্রেপ্তার

0
5

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান গণি ওরফে মনা (৩৫) বিপুল অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের একটি পাঁচতলা ভবনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভবনটির একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়।

এ সময় সেখান থেকে ওসমান গণি মনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দখল ও হেফাজত থেকে বিপুল অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) রাসেল।

জেলা পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে তিন দিন আগে কাশেম নামের আরেক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরে ওসমান গণির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকা বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরিমাণ এবং ধরন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি তৈরি ৭.৬৫ বোরের পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন, তিনটি একনলা শর্টগান, ৭.৬৫ পিস্তলের ১১ রাউন্ড তাজা গুলি, রাইফেলের গুলি এবং ১৭ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ। এ ছাড়া দেশীয় ধারাল অস্ত্র হিসেবে চাপাতি ও সুইচ গিয়ার চাকু জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও অভিযানে নগদ ৫১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন মডেলের একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যোগাযোগ রক্ষা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো। এসব মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও তথ্য বিশ্লেষণ করে তার সহযোগীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ওসমান গণি দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে তিনি এর আগে গ্রেপ্তার এড়িয়ে গেলেও এবার তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওসমান গণি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ ও অপরাধীদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তিনি নিজেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন এবং তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন রোকন উদ্দিন। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এই দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বিভিন্ন সহিংস ঘটনার পেছনে এই দ্বন্দ্ব বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, হাটহাজারী এলাকা থেকে বিপুল অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জঙ্গল সলিমপুর এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার সহযোগী ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এবং এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও বাস্তবে এটি অনেকটা নগর এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত। পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণ দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা।

গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বড় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানের পর থেকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here