সাবেক সংসদ সদস্য ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মিরপুর মডেল থানার হত্যা মামলায় পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ফের রিমান্ডে নেওয়া হলো। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি মিরপুর বিভাগের এসআই কফিল উদ্দিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১/১১ এর কুশীলব এ আসামি। তারেক রহমানকে পিটিয়ে কোমড় ভেঙে দিয়েছেন। এ সময় কাঠগড়ায় তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলে উঠেন ‘এটা মিথ্যা’। ডিফেন্সের লোক হওয়ায় তারা রিমান্ডে ভাসাভাসা তথ্য দিচ্ছে। আওয়ামী সময়ের সব গুম, খুনের কারিগর তারা। আস্তে আস্তে তথ্য আসা শুরু করেছে। সুতরাং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে তাকে আবার রিমান্ডে পাঠানো হোক।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তিনি আদালতে বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এ মামলায় দু’দফায় আট দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন। কি পেলেন তদন্ত কর্মকর্তা তা কিন্তু উল্লেখ করেনি। ১৫ দিন তিনি চিকিৎসায় ছিলেন। জোর করে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের দয়া কামনা করছি, যেন তার অসুস্থতা বিবেচনা করে তাকে রিমান্ডে না নেওয়া হোক।
এর আগে ১১ এপ্রিল আদালত তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন ১২ এপ্রিল তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করে নতুন করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও অনেক তথ্য গোপন করছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদের ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং আসামির দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করার স্বার্থে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। আদালত আজই এই রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আন্দোলনে অংশ নেয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় কয়েক দফায় রিমান্ডে রয়েছেন তিনি।




