বেসরকারি খাতের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন: অর্থমন্ত্রী

0
3

বেসরকারি খাতের উন্নয়ন হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে, আর আপনাদের উন্নয়ন না হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শিল্প বিকাশে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এনবিআর এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক সভায় তিনি জানিয়ে দেন যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্যবসা সহজীকরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রধান সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং গুণগত বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন উদ্যোগ
অর্থমন্ত্রী রপ্তানি খাতে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। বিশেষ করে জুয়েলারি ও গোল্ড সেক্টরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি এই খাতকেও পোশাক শিল্পের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, কেবল চুরির ভয়ে একটি বড় খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না, বরং যথাযথ তদারকির মাধ্যমে সব রপ্তানি খাতের জন্য দুয়ার খুলে দেওয়া হবে।

ডিজিটাল ট্যাক্স সিস্টেম ও দুর্নীতি হ্রাস
রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ট্যাক্স সিস্টেমের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে ফিজিক্যাল কন্টাক্ট বা সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে আনা হবে। এর ফলে দুর্নীতি কমবে এবং কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ হবে। অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, লক্ষ লক্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স নেটের বাইরে আছে। আপনারা সহায়তা করলে এই নেট বাড়ানো সহজ হবে। তিনি কর ফাঁকি রোধে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ দর্শনের ওপর গুরুত্ব দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবসা চায় না, বরং অর্থনীতির গণতান্ত্রিকায়ন চায় যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তিনি ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অভিমত
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বর্তমান অর্থমন্ত্রীকে ‘বিজনেস ফ্রেন্ডলি’ ও ‘প্র্যাগম্যাটিক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বিশেষ করে স্বর্ণ ব্যবসাকে ‘কালো অর্থনীতি’ থেকে বের করে মূল ধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানও অর্থমন্ত্রীর সুর মিলিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীরা গ্রো করলে বাংলাদেশ গ্রো করবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, রেগুলেশনের নামে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে রাজস্ব প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে।

সভায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ নিজ খাতের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শুল্ক-কর কমানো ও কোনো কোনে খাতে প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here