বিআরটিএর রাজস্ব কর্মকর্তা সলিম উল্ল্যাহর বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ

0
18

চট্টগ্রামের বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ অফিসটি যেন এখন দুর্নীতির এক অভেদ্য দুর্গ। আর এই দুর্গের অলিখিত ‘সুলতান’ হলেন জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ সলিম উল্ল্যাহ। তিনি চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে গড়ে তুলেছেন এক বিশ্বাল লুটপাটের রাজত্ব। সরকার পরিবর্তন হলেও রহস্যজনকভাবে এখনও বহাল তবিয়তে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, চট্টগ্রামের লালখান বাজারে সলিম উল্ল্যাহর দুটি ভবন রয়েছে। এছাড়া স্ত্রী ও নিকত্মায়ীয়ের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) থাকার কথাও দুদকে জমা পড়া এক অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

তবে সেবাগ্রহণকারীরা বলছেন, সলিম উল্ল্যাহর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ গ্রাহকেরা। ঘুষ ছাড়া এই অফিসে কোন ফাইল নড়ে না। তাদের ঘুষের নির্ধারিত ফি দিতে হয়। রুট পারমিটের জন্য ১০ হাজার, নবায়নের জন্য ৫ হাজার, মালিকানা পরিবর্তনের জন্য দিতে হয় ১৫-২০ হাজার টাকা, ফিটনেসের জন্য গুণতে হয় ১৫০০ থেকে ৫০০০। ড্রাইভিং লাইসেন্স বাবদ ঘুষ দিতে হয় ৫ হাজার।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সলিম উল্ল্যাহর বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক। এই অভিযানের পর থেকে সলিম উল্ল্যাহর মোবাই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সলিম উল্ল্যাহ কেবল একজন সরকারি কর্মকর্তাই নন, বরং তিনি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অত্যন্ত বিশ্বস্ত। তার দাপট দেখিয়ে গত দেড় দশক তিনি বিআরটিএর-তে নিজেই সমান্তরাল প্রশাসন চালিয়েছেন। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here