‘মহানগর ৩’-এ কাজ শুরু হচ্ছে!

0
3

২০২১ সালে ঝড় তুলেছিল আশফাক নিপুণের ‘মহানগর’। ‘ওসি হারুন’ চরিত্রে মোশাররফ করিমের দুর্দান্ত অভিনয়ের পর ২০২৩ সালে আসে এর দ্বিতীয় কিস্তি। তবে এর শেষ দৃশ্যে ওসি হারুনের গুলিবিদ্ধ হওয়া, সঙে ‘এমপি রজব আলী’ চরিত্রে কলকাতার অনির্বাণ ভট্টাচার্যের এন্ট্রি দর্শকদের চরম উৎকণ্ঠায় ফেলে দেয়। এরপর থেকেই ‘মহানগর ৩’-এর জন্য দর্শকদের প্রতীক্ষার প্রহর গোনা শুরু হলেও, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তৃতীয় কিস্তি নিয়ে ধোঁয়াশা যেন কাটছে না।

‘মহানগর ২’ যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছিল হাজারো প্রশ্ন। তৃতীয় সিজনে ওসি হারুন থাকবেন কি না, আর রজব আলীর সঙ্গেই বা তার সমীকরণ কী হবে- এমন জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন অনির্বাণ নিজেই। ক্যামিও চরিত্রে হাজির হওয়ার পর নিজের ইনস্টাগ্রামে রজব আলীর অবয়বে পরিচালক আশফাক নিপুনের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘গল্প এখানে শেষ হয়নি! দেখা হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি!’ এই বার্তার পর ভক্তদের প্রত্যাশা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল তখন।

কিন্তু সেই ‘তাড়াতাড়ি’ যে কবে আসবে, তা নিয়ে খোদ অনির্বাণও এখন অন্ধকারে! সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের কাজ এবং ‘মহানগর ৩’ প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। অনির্বাণ জানান, দ্বিতীয় কিস্তির একেবারে শেষে নিপুণের সঙ্গে তিনি খুব ছোট একটি কাজ করেছিলেন। বলেন, আমি নিপুনের (আশফাক নিপুন) সঙ্গে খুব ছোট একটা কাজ করেছিলাম। নিপুন মহানগর ২ এর একদম শেষে, রজব আলী নামের একটি চরিত্র। তারপর নিপুন আমাকে বললেন যে, আসলে তিন নম্বর সিজনটাতে আপনি আর মোশাররফ ভাই পুরোটা করবেন।

এরপর হেসে খানিকটা অনির্বাণ বললেন, এখনও আর এর কোনো খবর পেলাম না। মধ্যেখানে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল- এবার তাহলে হবে। কিন্তু এখন তো কোনো খবর পাইনি। আমি খুব মুখিয়ে আছি কাজ করার জন্য।

অনির্বাণের এই আক্ষেপ ও দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, শেষ পর্যন্ত কি আলোর মুখ দেখবে ‘মহানগর ৩’? এই সিরিজের ভবিষ্যৎ এবং তৃতীয় কিস্তি নির্মাণের বিষয়ে জানতে নির্মাতা আশফাক নিপুনেরও পাত্তা মেলেনি। টেলিফোনে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

‘মহানগর ৩’ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, এবং বাংলাদেশে কাজের জন্য মুখিয়ে থাকলেও নিজ শহর কলকাতায় অনির্বাণের কাজের কোনো কমতি নেই। টলিউডের অন্যতম ব্যস্ত ও দাপুটে এই অভিনেতাকে প্রতিনিয়তই দেখা যাচ্ছে নতুন নতুন সিনেমা বা ওয়েব ফিল্মে। নিজের অভিনয় জীবনের শুরু, সুখ্যাতি ও কুখ্যাতি— সবকিছুর জন্য টালিগঞ্জের প্রতি পূর্ণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও বাংলাদেশের কাজের প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম এবং জয়া আহসানের মতো গুণী অভিনয়শিল্পীদের গুণমুগ্ধ ভক্ত তিনি।

পরিচালকদের দারুণ কাজ এবং গুণী শিল্পীদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার প্রবল আগ্রহ থেকেই বাংলাদেশের প্রতি অনির্বাণের এতটা টান। বিশেষ করে তরুণ নির্মাতা নুহাশ হুমায়ুনের সঙ্গেও কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন তিনি। অনির্বাণ তো মজার ছলে বলেই ফেললেন, ‘বাংলাদেশে কাজ করার জন্য দরখাস্ত দিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here