কোরবানির ঈদে পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা প্রতিরোধে ‘কার্যকরী ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ। একই সঙ্গে হাটগুলোতে নগদ লেনদেন পরিহার করে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করার কথাও বলেন তিনি। রোববার (২৪ মে) ঢাকার গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে। সেজন্য পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পশু বিক্রির টাকা ছিনতায়ের মত ঘটনা প্রতিরোধে র্যাব কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা এবং টহল সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুরহাটে ক্রেতাদের ভোগান্তিরোধে কন্ট্রোল রুম এবং ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন পরিহার করে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন কেউ জোরপূর্বক কোন নির্দিষ্ট হাটে নিতে বাধ্য না করতে পারে সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিরাপদে গবাদি পশু হাটগুলোতে নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে ব্যাটালিয়নগুলো তাদের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট পরিচালনা করছে।
র্যাব ডিজি পলাশ আরো বলেন, জাল টাকা প্রতিরোধ এবং শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ জাল টাকা উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মাধ্যমে ঈদ এবং কোরবানিকে কেন্দ্র করে গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে র্যাব তার নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিধানিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।
এর আগে তিনি গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন, এসময় তিনি যাত্রী ও বাস কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রীদের সমস্যার কথা শোনেন। এসময় র্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বাস মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



