বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যত চমক

0
1

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮ দল অংশ নিতে যাচ্ছে। ১০৪টি ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত হবে। ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে সবগুলো দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড বাছাই। সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী ক্লাব, সবচেয়ে বয়স্ক ও সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, সবচেয়ে লম্বা ও খাটো খেলোয়াড়সহ স্কোয়াডের নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো-

২০০: ক্লাব ফুটবলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ২০০ জন খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। এরপরে রয়েছে জার্মানি (১০৯), ফ্রান্স (৮৬), স্পেন (৮৬), ইতালি (৭১), সৌদি আরব (৪৯), তুরস্ক (৪৫), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৪২), নেদারল্যান্ডস (৪৬), ব্রাজিল (৩৬) এবং পর্তুগাল (৩৬)।

৪১: টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার সময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বয়স হবে ৪১ বছর ১২৬ দিন। তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। যদি তিনি মাঠে নামেন, তবে রজার মিলা (৪২ বছর), ফরিদ মন্দ্রাগন (৪৩) এবং এসাম এল হাদারি (৪৫)-এর পর বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হবেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ২৩তম বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়দের তালিকায় রোনালদোর পরেই আছেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুইলারমো ওচোয়া (৪০), ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ (৪০), বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার স্ট্রাইকার এডিন জেকো (৪০), জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার (৪০) ও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা (৩৯)।

২৫: কাতার এবং সৌদি আরবের স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি ২৫ জন স্থানীয় খেলোয়াড় রয়েছেন, মানে যারা তাদের নিজ দেশের ঘরোয়া লিগে খেলেন। কাতারের লেফট-ব্যাক হোমাম আহমেদ স্পেনের কালচারাল লিওনেসা এবং সৌদি আরবের রাইট-ব্যাক সৌদ আব্দুলহামিদ ফ্রান্সের লেন্স ক্লাবের হয়ে খেলছেন। অন্যদিকে কেপ ভার্দে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো,আইভরি কোস্ট, কুরাসাও, সেনেগাল এবং উরুগুয়ের একজন খেলোয়াড়ও তাদের নিজ দেশের ঘরোয়া লিগে খেলেন না।

২২: ২০২৬ সালের এই আসরে মোট ২২ জন বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন ম্যানুয়েল নয়ার। এছাড়া উসমান দেম্বেলে, লুকাস হার্নান্দেজ, এনগোলো কান্তে এবং কিলিয়ান এমবাপে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেছিলেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের ১৭ জন খেলোয়াড়কে এবারও দলে রেখেছেন। তারা হলেন: থিয়াগো আলমাদা, হুলিয়ান আলভারেজ, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, লিওনেল মেসি, নাহুয়েল মলিনা, গঞ্জালো মন্তিয়েল, নিকোলাস ওতামেন্দি, এজেকুয়েল পালাসিওস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, জেরোনিমো রুলি এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।

১৯: ক্লাব দলগুলোর মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন খেলোয়াড় এবারের বিশ্বকাপে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আলজেরিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, মিশর, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ঘানা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল, স্পেন এবং উজবেকিস্তানের স্কোয়াডে সিটির খেলোয়াড়রা রয়েছেন। এরপরের অবস্থানে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ (১৮ জন), আর্সেনাল (১৬), প্যারিস সেন্ট জার্মেই (১৬), বার্সেলোনা (১৫), আল হিলাল (১২), অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ (১২), ক্রিস্টাল প্যালেস (১২), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (১২), বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (১১), গালাতাসারাই (১১) এবং লিভারপুল (১১)।

১৭: ১৭ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা গিলবার্তো মোরা এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড়। মেক্সিকো দলে তার সতীর্থ গুইলারমো ওচোয়া যখন প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন, তখন মোরার জন্মই হয়নি! মোরা যদি মাঠে নামেন, তবে তিনি কনকাকাফ অঞ্চলের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়বেন এবং স্বদেশী ম্যানুয়েল রোসাসের (যিনি ১৯৩০ সালে উরুগুয়ে বিশ্বকাপে ১৮ বছর বয়সে খেলেছিলেন) রেকর্ড ভাঙবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচেই যদি মোরা মাঠে নামেন, তবে তিনি পেলে, সলোমন ওলেম্বে, ফেমি ওপাবুনমি, স্যামুয়েল ইতো এবং রেকর্ডধারী নরম্যান হোয়াইটসাইডের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষিক্ত হবেন। এবারের আসরের শীর্ষ পাঁচ তরুণ খেলোয়াড়ের বাকিরা হলেন চেক রিপাবলিকের মিডফিল্ডার হুগো সোচুরেক (টুর্নামেন্ট শুরুর সময় বয়স ১৮ বছর ৪ দিন), জার্মানির প্লেমেকার লেনার্ট কার্ল (১৮ বছর ১০৯ দিন), সেনেগালের ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ে (১৮ বছর ১৩৮ দিন) এবং মিশরের ৯ নম্বর জার্সিধারী হামজা আবদেলকারিম (১৮ বছর ১৬১ দিন)।

১৩: ২০২৬ বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের মধ্যে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির ঝুলিতে সবচেয়ে বেশি ১৩টি বিশ্বকাপ গোল রয়েছে। তার পরেই আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে (১২টি), ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন (৮টি), ব্রাজিলের নেইমার (৮টি) এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৮টি)। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বাধিক ১৬টি গোলের রেকর্ডটি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে।

৬: লিওনেল মেসি, গুইলারমো ওচোয়া এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তারা আন্তোনিও কারভাহাল, লোথার ম্যাথুস, জিজি বুফন, রাফা মার্কুয়েজ এবং আন্দ্রেস গুয়ার্দাদোর সাথে যৌথভাবে পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন। অন্যদিকে লুকা মদ্রিচ, ইউতো নাগাতোমো এবং ম্যানুয়েল নয়ার উত্তর আমেরিকার এই আসরে নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলবেন। মেসি এবং রোনালদোই প্রথম ফুটবলার হতে যাচ্ছেন যারা সরাসরি ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে মাঠে নামবেন, কারণ ওচোয়া ২০০৬ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকো দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।

২.০৫: অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক ফ্লোরিয়ান উইগেল, যার উচ্চতা ২.০৫ মিটার (প্রায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি), বিশ্বকাপের ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড় হিসেবে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। এর আগের রেকর্ডটি ছিল নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক অ্যান্ড্রিস নোপার্টের (২.০৩ মিটার, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ)। ২০২৬ আসরের অন্য শীর্ষ লম্বা খেলোয়াড়রা হলেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন (২.০১ মিটার), কলম্বিয়ার গোলরক্ষক আলভারো মনতেরো (২.০১ মিটার) এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সেন্টার-ব্যাক স্তেপান রাদেলিচ (২.০১ মিটার)।

১.৬০: পানামার প্লেমেকার সিজার ইয়ানিস মাত্র ১.৬০ মিটার (প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি) উচ্চতা নিয়ে এবারের আসরের সবচেয়ে খাটো খেলোয়াড়। তার পরেই আছেন কুরাসাওয়ের ১.৬৪ মিটার উচ্চতার ফরোয়ার্ড জেরেমি আন্তোনিসে। গ্রুপ ‘এল’-এর শেষ ম্যাচে যখন পানামা এবং ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে, তখন ড্যান বার্ন এবং সিজার ইয়ানিসের মধ্যে উচ্চতার ব্যবধান থাকবে পুরো ৪১ সেন্টিমিটার! এর আগে বিশ্বকাপে একই মাঠে দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় উচ্চতার ব্যবধান ছিল ৩৯ সেন্টিমিটার; ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোর দানবীয় ফুটবলার নিকোলা জিগিচ এবং আইভরি কোস্টের বাকারি কোনের মধ্যে এই ব্যবধান দেখা গিয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here