রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা আলোচিত মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর আদালতের এজলাসকক্ষে সোহেল ও স্বপ্না দুজনই নীরব ছিলেন। কাঠগড়া থেকে বের করার সময়ও কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। তবে রায় পড়ার আগে কাঁদতে থাকেন স্বপ্না। আর সোহেলকে দোয়া-দরুদ পড়তে দেখা গিয়েছিল।
এদিকে, রায় ঘোষণার পর দুপুর ১২টার দিকে সোহেল ও স্বপ্নাকে কাঠগড়া থেকে বের করার সময় ‘খুনি খুনি’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষুব্ধ জনতা। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিও করেন অনেকে।
এদিকে, রায় ঘোষণা ঘিরে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এর আগে, ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এ মামলায় ১৮ সাক্ষীর মধ্যে একদিনেই ১৬ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। সবমিলিয়ে মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান আসামি স্বপ্না। এরপর ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করেন সোহেল। হত্যার পর মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। আর এ কাজে স্বামীকে সহায়তা করেন স্ত্রী। এ ঘটনার পর থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।



