স্প্যানিশ তারকাকে ধাক্কা দেওয়ায় অনুতপ্ত আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ

0
4

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলেছে স্পেন। কিন্তু ফাইনালের পরিস্থিতি ঠিক সহজ ছিল না। ম্যাচজুড়ে ফুটবলারদের মারমুখী ভাব তো ছিল, রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই পরিস্থিতি আরও সীমা ছাড়ায়। পরস্পরকে উসকানি ও তর্কের পর উত্তেজিত দু’পক্ষই হাতাহাতিতে জড়ায়। যেখানে চালকের আসনে ছিলেন আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার। এ ছাড়া স্প্যানিশ তারকার গায়ে হাত তুলেছেন প্রতিপক্ষ কোচও।

শুরুটা হয় সতীর্থদের উদ্দেশে প্রবল উচ্ছ্বাসে দৌড়াতে থাকা বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলজয়ী তারকা রদ্রির বুকে নাহুয়েল মোলিনার ঘুষি মারার মধ্য দিয়ে। এরপর মাঝমাঠে স্পেনের সেন্টারব্যাক এরিক গার্সিয়া সতীর্থদের সঙ্গে চিৎকার করে উদযাপন করার মাঝে প্রতিপক্ষ তারকা লিয়েন্দ্রো পারেদেস পায়ের বুট দিয়ে এবং পরে গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন সরাসরি। পরিস্থিতি সামলাতে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ও সহকারী কোচ ওয়াল্টার স্যামুয়েল দ্রুত তাদের থামাতে এগিয়ে আসেন।

এরই মধ্যে স্পেনের গাভিও ক্ষুব্ধ হয়ে পারেদেসকে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতেই উল্টো ধরাশায়ী। আর্জেন্টিনার ৫ নম্বর জার্সিধারী এই তারকা বার্সেলোনা মিডফিল্ডারের শার্ট ধরে তাকে মাটিতে আছাড় মারেন। থিয়াগো আলমাদাও এই হাতাহাতির মাঝে পড়ে গিয়েছিলেন। পরে কোচ ও অন্য সতীর্থরা মিলে তাদের দু’পাশে সরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু অন্যপাশে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমোর সঙ্গে তর্ক বাধে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার সঙ্গে।

একপর্যায়ে ওলমোর গলায় আঘাত করে বসেন আয়ালা। এ নিয়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস বলছে, খুব রাগান্বিত দেখাচ্ছিল এই কোচকে, এ ছাড়া স্প্যানিশ তারকার বুকেও ধাক্কা মারেন তিনি। তবে ওলমো তাকে আঘাতের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেননি। শিরোপা জয়ের উৎসব সেরে যাওয়ার সময় মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে ওলমো কিছুটা চড়া স্বরে কথা বললেও আয়ালার সঙ্গে বিবাদের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ম্যাচ পরবর্তী ওই বিশৃঙ্খলার সময় ঠিক কী ঘটেছিল তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আয়ালা। ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এই আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, ‘অবশ্যই আমি দুঃখিত। আমার অবস্থানে থেকে কোনো অনুভূতি বা প্রতিপক্ষের কোনো আচরণ আমার মানসিকতা বা কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে দেওয়া উচিত নয়।’

তিনি জানান, ‘আমার মতে এখানেই ইতি টানা উচিত। এটা কেবল একটি ধাক্কা ছিল, এর বেশি কিছু নয়। যেভাবে এটিকে ঘুষি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। ওর একটি কথার প্রতিক্রিয়ায় এমনটা হয়েছিল, এর বেশি কিছু নয়। আবার যদি ওর সঙ্গে দেখা হয়, অবশ্যই আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইব।’

যদিও ভিন্ন উদ্দেশে সেখানে গিয়েছিলেন আয়ালা, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি মাঠের মাঝখানে হাতাহাতি দেখতে পাই। তখন আমরা ছুটে যাই আমাদের খেলোয়াড়দের সেখান থেকে সরিয়ে আনতে। আমি যা করেছি তার দায় স্বীকার করছি। আমার উদ্দেশ্য ছিল গিয়ে সবাইকে আলাদা করা। কিন্তু কখনও কখনও এমন পরিস্থিতিতে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং ঘটনা ঘটে যায়। তবে এটাকে কোনো অজুহাত হিসেবে দেখানো যায় না। গার্সিয়াও সেখানে ছিল। আমি শুধু তাকে বলেছিলাম, আমি সবাইকে আলাদা করতে এবং তাদের অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলাম, আর কিছু নয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here