অনশন শেষের কারণ জানালেন ওয়াংচুক

0
3

টানা ২৬ দিন অনশনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াই অনশন শেষ করেছেন ভারতের অন্যতম অ্যাকটিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুক। তিনি জানিয়েছেন, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি ব্যবস্থা ঠেকাতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার, পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ওয়াংচুক অনশন শেষ করেন।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম সিজেপির প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াই অনশন শেষ করায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

শুক্রবার গভীর রাতে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, পদত্যাগ ‘নিঃসন্দেহে একটি বিবেচ্য বিষয়’ ছিল, কিন্তু কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ দাবি জোর দিয়ে তোলেননি। কারণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি ব্যবস্থা প্রতিরোধ করাই ছিল তার প্রধান অগ্রাধিকার।

হাসপাতালের শয্যা থেকে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই পদত্যাগ ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করাকে আমি অপরিহার্য মনে করি না। পদত্যাগের বিষয়টি কেন্দ্রের জন্য আপাতদৃষ্টিতে একটি সামান্য বিষয় হলেও এটি মেনে না নেওয়ায় তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। সারা দেশে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।’

তিনি বলেন, আলোচনার সময় তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। তারা আরও সময় চেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, এ মুহূর্তে তারা এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না।

ভারতের এই অ্যাকটিভিস্ট বলেন, ‘আমি জানতাম, তারা (কেন্দ্র) এভাবে বেশিদিন টিকতে পারবে না। আজ হোক বা কাল, পদত্যাগ করতেই হবে। আমি জানতাম, পদত্যাগের বিষয়টি দ্রুতই মিটে যাবে, কারণ এর রাজনৈতিক পরিণতি তারাই ভোগ করছিল। তাই এ নিয়ে আমি খুব বেশি চাপ দিইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমার প্রধান উদ্বেগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও এফআইআর। মন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করিনি।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যারা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা জানেন না যে প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আমাকে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘যদি আমাকে কোনো সমঝোতাই করতে হতো, তাহলে কি আমি ২৬ দিন না খেয়ে থাকতাম? দিল্লির এই গরমে অনশন না করে, একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই কি আমি সেই চুক্তি করতে পারতাম না?’

সূত্র: এনডিটিভি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here